
সাপাহারে জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
মোঃ হামিদুর রহমান, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর সাপাহারে সীমান্তবর্তী এলাকায় পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৩টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাপাহার উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা রিয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নওগাঁ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি সামাজিক সম্প্রীতি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা রোধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদকাসক্তি সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি। এর কুফল থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিজিবির বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন।
এছাড়াও বক্তব্য দেন সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশিষ কুমার, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান টকি, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী লাবু, প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুন নুর এবং পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, গ্রাম পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় সীমান্ত অঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সামাজিক সম্প্রীতি, মাদক প্রতিরোধ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বক্তারা মাদক, গুজব ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।