
*রামিসার রায়ে স্বস্তি, এখন সব শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় চাই একই গতির বিচার*
বিশেষ প্রতিবেদন: মুহাম্মদ সালাহ উদ্দীন, স্টাফ রিপোর্টার আলীকদম (বান্দরবান)
বাংলাদেশে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মতো নির্মম অপরাধের ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ, উদ্বেগ ও বিচার প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। সম্প্রতি আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হওয়া এবং আদালতের সর্বোচ্চ শাস্তির রায় ঘোষণার পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে দেশের অন্যান্য শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া।
রামিসা মামলায় তদন্ত, আলামত সংগ্রহ, ডিএনএ পরীক্ষা, চিকিৎসা প্রতিবেদন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম তুলনামূলক স্বল্প সময়ে সম্পন্ন হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন নাগরিক প্ল্যাটফর্মে এখন একটি প্রশ্নই বেশি উচ্চারিত হচ্ছে—“রামিসা যদি দ্রুত বিচার পেতে পারে, তাহলে অন্য শিশুদের ক্ষেত্রে একই ধরনের বিচারিক অগ্রগতি কেন হবে না?”
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশে শিশু ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা এবং নারী-শিশু নির্যাতনের বহু মামলা বছরের পর বছর বিচারাধীন অবস্থায় পড়ে থাকে। তদন্তের ধীরগতি, ফরেনসিক রিপোর্ট পেতে বিলম্ব, সাক্ষী হাজিরায় জটিলতা এবং মামলা জটের কারণে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী পরিবার হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটায়।
আইন সচেতন নাগরিকরা বলছেন, রামিসা মামলায় যেভাবে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে, সেই মডেলকে দেশের অন্যান্য শিশু নির্যাতন মামলার ক্ষেত্রেও অনুসরণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ডিএনএ পরীক্ষা, ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহ এবং চার্জশিট দাখিলের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের দাবি উঠেছে।
এদিকে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও সচেতন মহল শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মামলাগুলোর জন্য পৃথক ও বিশেষায়িত বিচারিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের মামলার জন্য বিশেষ আদালত বা বিশেষ শাখা থাকলে মামলা জট কমবে, বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে।
তারা আরও মনে করেন, আদালতের রায় ঘোষণার পর আপিল ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, যাতে বিচার দীর্ঘসূত্রতায় হারিয়ে না যায় এবং অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে শাস্তি এড়াতে না পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
অনেকেই মন্তব্য করেছেন, শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি শিশুর জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনো মামলাই অবহেলা বা দীর্ঘসূত্রতার কারণে থমকে না থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, রামিসা মামলার রায় শুধু একটি মামলার বিচার নয়; এটি দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। এখন দেখার বিষয়, এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে দেশের অন্যান্য শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলাও একই গতিতে নিষ্পত্তি হয় কি না।
জনগণের প্রত্যাশা একটাই—রামিসার মতো প্রতিটি নির্যাতিত শিশুর জন্যও দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত হোক। কারণ ন্যায়বিচার কেবল একটি পরিবারের অধিকার নয়, এটি পুরো সমাজের দাবি।