
রাজশাহীর আমের বাজার পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন
অপু দাস,ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
রাজশাহী, ১৬ জুন ২০২৬: দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আমের বাজার রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে রাষ্ট্রদূত বানেশ্বর আম হাটে পৌঁছে বিভিন্ন আমের আড়ত, পাইকারি বাজার ও বিক্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের পলিটিক্যাল কাউন্সেলর , পলিটিক্যাল অফিসার সহ দূতাবাসের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। তিনি আম ব্যবসায়ী, আড়তদার ও কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আমের স্বাদ গ্রহণ করেন। রাজশাহীর বিখ্যাত আমের বৈচিত্র্য, স্বাদ ও গুণগত মান সম্পর্কে তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
হাটে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একজন কূটনীতিকের এমন সফর রাজশাহীর আম শিল্পের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। তাঁদের মতে, এর মাধ্যমে রাজশাহীর আম বিশ্ববাজারে আরও পরিচিতি লাভ করবে এবং রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
স্থানীয় কৃষকরাও এ সফরকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, রাজশাহীর আম দীর্ঘদিন ধরেই দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের এ ধরনের আগ্রহ কৃষিপণ্য রপ্তানি সম্প্রসারণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন, রাজশাহীতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটি তাঁর প্রথম সফর। যদিও ২০২০ সালে তিনি একবার রাজশাহী সফর করেছিলেন, তবে এবার বিশেষভাবে আমের মৌসুমে এসেছেন রাজশাহীর বিখ্যাত আমের স্বাদ নিতে।
তিনি বলেন, “রাজশাহীতে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। আমি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছি। কোনো কৃষিপণ্য যেখানে উৎপাদিত হয়, সেই স্থানে গিয়ে সেটিকে কাছ থেকে দেখা ও স্বাদ গ্রহণ করার অভিজ্ঞতা সত্যিই অনন্য। উৎপাদনস্থলে গেলে সবচেয়ে তাজা ও বৈচিত্র্যময় পণ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হয়, যা অন্য কোথাও সম্ভব নয়।”
মার্কিন রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, আমেরিকানদের কাছেও আম একটি জনপ্রিয় ফল। যুক্তরাষ্ট্রে আম পাওয়া গেলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা হিমায়িত অবস্থায় বাজারজাত করা হয় এবং বিভিন্ন পানীয় বা খাদ্যপণ্য তৈরিতে ব্যবহার করা হয়। তবে রাজশাহীর মতো এত তাজা ও বৈচিত্র্যময় আম সেখানে সহজে পাওয়া যায় না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের কোল্ড চেইন বা আধুনিক হিমাগার ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। তাঁর মতে, হিমায়িত আম সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য কার্যকর কোল্ড চেইন ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে সারা বছর আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আম সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, উন্নত সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে দেশের আম উৎপাদন, বাজারজাতকরণ এবং বৈদেশিক রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এতে কৃষক, ব্যবসায়ী ও জাতীয় অর্থনীতি সমানভাবে উপকৃত হবে।