
মোঃ আনোয়ার পারভেজ জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা
কুমিল্লার দেবিদ্বারে সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ওয়ার্কার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নির্বাচিত দুই নেতার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র মূলক ও মিথ্যা অভিযোগ’ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শ্রমিক-কর্মচারীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে প্রতিষ্ঠানের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ ও ক্রীড়া সম্পাদক সোহেল রানা শুভর বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ ও ক্রীড়া সম্পাদক সোহেল রানা শুভকে লক্ষ্য করে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে। এসব প্রচারণার উদ্দেশ্য দুই নেতার ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা বলে দাবি করেন তারা।শ্রমিকদের অভিযোগ, বিভিন্ন ভুয়া বা ফেক আইডি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বিভ্রান্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা ও সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করেন বক্তারা।মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ভাবে উপস্থাপন করা উচিত। এরপর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্তের আগেই কোনো ব্যক্তিকে সামাজিক ভাবে হেয় করা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা অনভিপ্রেত।তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তৈরি করা কোনো ভিডিও বা তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে তা প্রচার করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।মানববন্ধন থেকে শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও তথ্য প্রচারের সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।শ্রমিক-কর্মচারীরা বলেন, নির্বাচিত শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে কাউকে হয়রানি বা হেয় করার চেষ্টা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।এ সময় তারা দুই শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে চলমান কথিত অপপ্রচার বন্ধ এবং প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে তুলে ধরার দাবি জানান।তবে মানববন্ধনে উত্থাপিত অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।