
রাজশাহীতে হত্যা চেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলায় অভিযুক্ত বেলাল হোসেন গ্রেপ্তার
অপু দাস,ব্যুরো প্রধান,
রাজশাহী।
রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া এলাকায় হত্যা চেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলাসহ একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোঃ বেলাল হোসেনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৫, রাজশাহী। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজপাড়া থানাধীন আলিগঞ্জ কামারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার (২৬ অক্টোবর ২০২৬) এসআরবি-৫-এর প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআরবি-৫-এর সদর কোম্পানি, রাজশাহীর একটি অপারেশন দল গত ২৫ অক্টোবর দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে আলিগঞ্জ কামারপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানাধীন আলিগঞ্জ পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত হাসান তারেক।
এসআরবি-৫-এর বিজ্ঞপ্তিতে বেলাল হোসেনকে রাজপাড়া থানায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলার অভিযুক্ত এবং একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাটালিয়নটি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মোঃ সিফু নামের এক ব্যক্তিকে গুরুতর আহত করার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, ওই দিন বেলাল হোসেন ও তার সহযোগীরা রামদা দিয়ে সিফুকে কুপিয়ে এবং জিআই পাইপ দিয়ে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর জখম হন। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি রাজপাড়া থানার হত্যা চেষ্টা-সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাশাপাশি তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হবে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।
এ ছাড়া বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে আরও একটি ঘটনার অভিযোগ রয়েছে, যা ঘটেছিল গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাতে। এসআরবি-৫-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওই রাতে বেলাল হোসেন ও তার সহযোগীরা মোঃ তাজ উদ্দিন আহমেদের ছেলে এবং তার এক বন্ধুকে কৌশলে একটি অজ্ঞাতনামা ভবনে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তাদের মারধর করে দুটি মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআরবি-৫ জানায়, এসব মামলায় বেলাল হোসেনের সম্পৃক্ততা যাচাইয়ের জন্য গ্রেপ্তারের পর তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ব্যাটালিয়নের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি মামলার ঘটনাগুলোর সত্যতা স্বীকার করেছেন। তবে মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হবে।
গ্রেপ্তারের পর বেলাল হোসেনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এসআরবি-৫-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তাকে সাধারণ ডায়েরির (জিডি) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী ও সংঘবদ্ধ অপরাধীদের শনাক্ত করা এবং অস্ত্রধারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি ছিনতাই, ধর্ষণ, অপহরণ ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনেও কার্যক্রম চালানোর কথা জানিয়েছে ব্যাটালিয়নটি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার লক্ষ্য রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
এসআরবি-৫-এর ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বেলাল হোসেনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট থানা ও কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।