
জাহাঙ্গীর আলম স্টাফ রিপোর্টার মানিকগঞ্জ
১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মানিকগঞ্জ জেলায় যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে, তা অনেকের কাছেই এক ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ প্রায় ১৮ বছর ধরে জেলার তিনটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি কার্যত কোণঠাসা অবস্থায় ছিল।মানিকগঞ্জ–১ (সিংগাইর ও হরিরামপুর),মানিকগঞ্জ–২ (শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর),
এবং মানিকগঞ্জ–৩ (মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া)এই তিনটি আসনেই পূর্ববর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের শক্ত অবস্থানের কারণে বিএনপির প্রার্থীরা কার্যকরভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি বলে অভিযোগ ছিল স্থানীয় নেতাকর্মীদের।কিন্তু রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের পর জেলা বিএনপির সফল আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতা নতুন করে সংগঠনকে সুসংগঠিত করেন।তৃণমূল পর্যায়ে কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় করা, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ,পথসভা এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠনের মাধ্যমে তিনি জেলায় দলীয় শক্তি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিনের বিভক্ত ও নিষ্ক্রিয় সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রাণ ফিরে আসে।জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সমন্বিত কার্যক্রম গড়ে তোলা হয়।বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও নারী ভোটারদের সম্পৃক্ত করার কৌশল ছিল উল্লেখযোগ্য।ফলাফলস্বরূপ, মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি আসনেই বিএনপি এককভাবে বড় ব্যবধানে বিজয় লাভ করে যা জেলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।এর মধ্যে মানিকগঞ্জ–৩ আসনে আফরোজা খানম রিতা সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন বলে দলীয় সূত্রে জানা যায়।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের মতে, এটি শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়, বরং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সাংগঠনিক ঐক্য ও রাজনৈতিক পুনর্জাগরণের ফল। অনেকেই এই বিজয়কে মানিকগঞ্জে বিএনপির প্রত্যাবর্তন” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।
এই ঐতিহাসিক ফলাফল জেলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথেও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।