
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি
ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নে ইফতারের সময় বাড়িতে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা আইয়ুব নবী তারেককে।এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।নিহত আইয়ুব নবী তারেক বগাদানা ইউনিয়নের জাতীয়তাবাদী তাঁতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।তিনি জাতীয়তাবাদী তাঁতী দল-এর একজন সক্রিয় সংগঠক ছিলেন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে এলাকায় ব্যাপকভাবে কাজ করছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।ধানের শীষ প্রতীকটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর নির্বাচনী প্রতীক।
ইফতারের দাওয়াতেই প্রাণঘাতী ফাঁদ পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ,পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইফতারের দাওয়াতের কথা বলে তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেওয়া হয়।পরে নির্জন স্থানে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।স্বজনদের দাবি, স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এর ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে।তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে বগাদানা ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।নিহতের পরিবার,সহকর্মী ও এলাকাবাসী অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।তারা বলেন,সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত খুনিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এ ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক ও গণতন্ত্রবিরোধী আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনী পরিবেশ নষ্ট করতে এবং একটি নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে আইয়ুব নবী তারেককে টার্গেট করা হয়েছে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।এদিকে শোকসন্তপ্ত পরিবার ও এলাকাবাসীর আহাজারিতে পুরো অঞ্চল ভারী হয়ে উঠেছে।ইন্না-লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন”এই বাক্য উচ্চারণের মধ্য দিয়ে প্রিয় নেতাকে শেষ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে এলাকায় আরও অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।এখন সবার চোখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপের।