
ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার ব্যবসায়ী ও আমদানিকারক মো. আবুল কালাম আজাদকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করার একদিন পরই আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) দিবাগত মধ্যরাতে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও গোদাগাড়ী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গোদাগাড়ী পৌরসভার মহিষালবাড়ী (সাগরপাড়া) এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
এর আগে, ১৯ জুলাই তিনি নিজের জানমালের নিরাপত্তা, ব্যবসায়িক পরিবেশ সুরক্ষা এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ প্রশাসনের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিত আবেদন জমা দিয়েছিলেন।
আবুল কালাম আজাদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, কোনো বৈধ কারণ ছাড়াই গভীর রাতে তাকে বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তার আপন চাচা ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মাদক মামলা দায়ের করা হয়। সরকার পরিবর্তনের পরও সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় তাকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গোদাগাড়ী থানা পুলিশ ও রাজশাহী জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে তাকে আটক করা হয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া একটি মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়ায় তাকে আটক করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেওয়া আবেদনে আবুল কালাম আজাদ উল্লেখ করেন, তিনি মেসার্স নাহার এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স এম.এ ব্রিকস ও মা ব্রিকসের স্বত্বাধিকারী। পাশাপাশি তিনি সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ এবং রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির একজন নিয়মিত সদস্য। তিনি দাবি করেন, একজন নিয়মিত করদাতা হিসেবে প্রতি বছর প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ লাখ টাকা ভ্যাট ও আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে আসছেন।
আবেদনে তিনি আরও বলেন, জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক আদর্শের অনুসারী হওয়ার কারণে গত ১৭ বছর ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তার অভিযোগ, তৎকালীন প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় বিভিন্ন ঘটনায় তাকে পলাতক আসামি হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হতো। সরকার পরিবর্তনের পরও একটি প্রভাবশালী মহল তার বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত করতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিভ্রান্তিকর তথ্য সরবরাহ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে বলেও তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন।
এসব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সব মামলার বিষয়ে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা তদন্তের দাবি জানান।
তবে সেই আবেদন জমা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার না হতেই তার আটকের ঘটনায় গোদাগাড়ীজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে পরিবারের পক্ষ থেকে আটককে হয়রানিমূলক বলে দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে পুলিশ বলছে, এটি চলমান একটি মামলার তদন্তের অংশ এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।