
ফুলগাজীতে ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি
২৯শে জুন ২০২৬ইং।
ফুলগাজীতে ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন
২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে সরকারের উদ্যোগ
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও ফলজ চারা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উপজেলার মোট ৩ হাজার কৃষকের হাতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ তুলে দেওয়া হবে।
রোববার (২৯ জুন) উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহেলী নোশীন প্রত্যাশা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রোপা আমন ধানের আবাদ সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে ১ হাজার ৪০০ জন কৃষককে জনপ্রতি ৫ কেজি উন্নতমানের ধান বীজ, ১০ কেজি ডিএপি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হবে।
এছাড়া হাইব্রিড মরিচ চাষে উৎসাহ দিতে ৭৫ জন কৃষককে জনপ্রতি ১০ গ্রাম বীজ, ৫ কেজি ডিএপি সার এবং ৫ কেজি এমওপি সার দেওয়া হবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ১৪৫ জন কৃষককে জনপ্রতি ৫টি ফলজ গাছের চারা ও ৫টি খুঁটি বিতরণ করা হবে। একই সঙ্গে উফশী ও হাইব্রিড সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩৮০ জন কৃষককে জনপ্রতি ৩০০ গ্রাম সবজি বীজ, ১৫ কেজি ডিএপি সার এবং ১৫ কেজি এমওপি সার দেওয়া হবে।
অন্যদিকে লেবু উৎপাদন সম্প্রসারণের জন্য ৩৫ জন কৃষককে জনপ্রতি ৫টি লেবুর চারা ও ৫টি খুঁটি প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে সরকারের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও লাভজনক কৃষি চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করতেই বিনামূল্যে এসব কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন একাডেমিক সুপারভাইজার মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ আসিফ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাজমুল হাসান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এ প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমবে, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকের আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।