মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২১ পূর্বাহ্ন
Title :
দুর্গাপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, সার ব্যবস্থাপনা আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা কর্মঘণ্টায় তালাবদ্ধ ৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউএনওর আকস্মিক পরিদর্শন মুন্সীগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা বিধবার জমি দখলের অভিযোগ স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে নাজিরপুর উপজেলা কৃষকদলের সভাপতির ঘের দখলের চেষ্টা নাজিরপুর উপজেলা কৃষকদলের সভাপতির ঘের দখলের চেষ্টা শান্তিগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ডুমুরিয়া বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬ অনুষ্ঠিত সুন্দরগঞ্জে মৎস্য চাষি ছাড়াই মৎস্য পক্ষ উদযাপন ২০২৬ ভূমিমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার পেলেন উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারি গোলাম সাকলায়েন

বানিয়াচঙ্গের এসএসসি ফলাফলে সেরা আড়িয়ামুগুর,মহারত্নপাড়া – নামিদামি স্কুলগুলো পিছিয়ে

  • Update Time : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৪ Time View

শাব্বীর আহমদ শিবলী নোমানী বিশেষ প্রতিবেদক হবিগঞ্জ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রকাশিত হয়েছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। ফল প্রকাশের পর হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় দেখা দিয়েছে আনন্দ-বেদনার মিশ্র প্রতিচ্ছবি। কোনো প্রতিষ্ঠানে সাফল্যের উচ্ছ্বাস, কোথাও আবার কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার হতাশা। বিশেষ করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পাসের হার উপজেলার গড়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হওয়ায় শিক্ষার মান ও ফলাফল নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি হয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রকাশিত ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, বানিয়াচং উপজেলার ২৭টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ১৯৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৬৭ জন। উপজেলায় গড় পাসের হার ৪৪ দশমিক ০২ শতাংশ। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ২৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
পাসের হারে এবার বানিয়াচং উপজেলার সেরা হয়েছে আড়িয়ামুগুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৬৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮১ দশমিক ১৫ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মহারত্নপাড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪ জন উত্তীর্ণ হয়ে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এরপর রয়েছে বালাগোড়াখালি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ৫৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ইকরাম নন্দপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ৫৪ দশমিক ১০ শতাংশ, বানিয়াচং সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৫১ দশমিক ৬১ শতাংশ, বি.জি.এম উচ্চ বিদ্যালয় ৫১ দশমিক ৫২ শতাংশ, আমবাগান উচ্চ বিদ্যালয় ৫১ দশমিক ৪৩ শতাংশ, বানিয়াচং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ৫০ দশমিক ২২ শতাংশ, মন্দরী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ৫০ শতাংশ।

অন্যদিকে উপজেলার সবচেয়ে কম পাসের হার জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রতিষ্ঠানটির ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ২৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে মেধা বিকাশ উচ্চ বিদ্যালয়, যার পাসের হার ৩১ দশমিক ৪৩ শতাংশ; হিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয় ৩২ দশমিক ৮৪ শতাংশ; হানিফখান উচ্চ বিদ্যালয় ৩৫ দশমিক ৯২ শতাংশ; মুরাদপুর উচ্চ বিদ্যালয় ৩৬ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং বক্তারপুর আবুল খয়ের উচ্চ বিদ্যালয় ৩৬ দশমিক ৫২ শতাংশ, ডা. ইলিয়াস একাডেমি ও দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয় ৩৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ, নাগুড়া ফার্ম উচ্চ বিদ্যালয় ৩৯ দশমিক ০২ শতাংশ।

জিপিএ-৫ অর্জনের সংখ্যায়ও এগিয়ে রয়েছে বানিয়াচং সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ১২৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৪ জন পাস করেছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন। বানিয়াচং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন। এলআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, থেকে ৩ জন ও কাদিরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন। আর মেধা বিকাশ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ জন ও ডা. ইলিয়াছ একাডেমি থেকেও ২ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ ছাড়া আড়িয়ামুগুর পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়, সাতগ্রাম একতা উচ্চ বিদ্যালয়, জনতা উচ্চ বিদ্যালয়, সন্দলপুর বি.সি. উচ্চ বিদ্যালয় ও ইকরাম নন্দপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে একজন করে শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
দাখিলে তুলনামূলক ভালো ফলাফল অর্জন করেছে।
এসএসসির পাশাপাশি বানিয়াচংয়ের দাখিল পরীক্ষার ফলাফলেও তুলনামূলক স্বস্তির চিত্র দেখা গেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ফলাফল বিবরণী অনুযায়ী, উপজেলার ছয়টি মাদ্রাসা থেকে মোট ২০৭ জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ১৩৩ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
দাখিলে বানিয়াচং সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় ৭৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং এ প্রতিষ্ঠান থেকেই দুটি জিপিএ-৫ এসেছে। বিএসডি বালিকা আলিম মাদ্রাসায় ৩৭ জনের মধ্যে ২৮ জন পাস করেছে, পাসের হার ৭৫ দশমিক ৬৮ শতাংশ। জামেয়া রেদওয়ানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২০ জনের মধ্যে ১২ জন পাস করেছে, হার ৬০ শতাংশ। কুমড়ী নজরপুর বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ৩১ জনের মধ্যে ২০ জন পাস করেছে, হার ৬৪ দশমিক ৫১ শতাংশ। দুরগাহপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২২ জনের মধ্যে ১৩ জন পাস করেছে, হার ৫৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। উত্তর সাগর সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯ জনের মধ্যে ৮ জন পাস করেছে, পাসের হার ৪২ দশমিক ১০ শতাংশ।

কারিগরিতে পাসের হার কম, জিপিএ-৫ পাঁচ
কারিগরি শিক্ষায় এবার বানিয়াচংয়ে ফলাফল তুলনামূলকভাবে দুর্বল। উপজেলার তিনটি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে মোট ২১৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ৮৪ জন পাস করেছে। গড় পাসের হার ৩৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তবে কম পাসের হারের মধ্যেও কারিগরি বিভাগে ৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।

কারিগরি বিভাগে সবচেয়ে ভালো ফল করেছে বানিয়াচং সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির ৬৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ জন পাস করেছে। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এখান থেকেই সর্বোচ্চ ৪টি জিপিএ-৫ এসেছে। বানিয়াচং আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (ভোকেশনাল) থেকে ৯১ জনের মধ্যে ৩১ জন পাস করেছে, পাসের হার ৩৪ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং একজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। অপরদিকে সুফিয়া মতিন টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৮ জন পাস করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পাশের হার ২৮.৫৭ শতাংশ।‌

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews