মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:৩৩ পূর্বাহ্ন
Title :
দুর্গাপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, সার ব্যবস্থাপনা আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা কর্মঘণ্টায় তালাবদ্ধ ৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ইউএনওর আকস্মিক পরিদর্শন মুন্সীগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা বিধবার জমি দখলের অভিযোগ স্কুলশিক্ষকের বিরুদ্ধে নাজিরপুর উপজেলা কৃষকদলের সভাপতির ঘের দখলের চেষ্টা নাজিরপুর উপজেলা কৃষকদলের সভাপতির ঘের দখলের চেষ্টা শান্তিগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা ডুমুরিয়া বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় মৎস্যপক্ষ ২০২৬ অনুষ্ঠিত সুন্দরগঞ্জে মৎস্য চাষি ছাড়াই মৎস্য পক্ষ উদযাপন ২০২৬ ভূমিমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার পেলেন উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ মৎস্য খামারি গোলাম সাকলায়েন

সিজারের চুক্তিতে অদক্ষ নার্স দিয়ে ডেলিভারি শ্রীপুরে মা ও শিশুর জীবন এখন সংকটাপন্ন

  • Update Time : সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬
  • ৩০ Time View

মোঃ খাইরুল ইসলাম শ্রীপুর প্রতিনিধি গাজীপুর

একটি কোল আলো করে আসা শিশুর প্রথম কান্নার আওয়াজ হওয়ার কথা ছিল একটি পরিবারের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত। নতুন খিলখিল হাসিতে মুখরিত হওয়ার কথা ছিল কাওরাইদ ইউনিয়নের বিদাই গ্রামের একটি সাধারণ ঘর। কিন্তু জৈনা বাজারের ”আনোয়ারা হাসপাতাল” নামের এক ক্লিনিকের চরম অবহেলা আর ভুল চিকিৎসা সেই আনন্দকে বদলে দিয়েছে বুকফাটা আর্তনাদে। গত ১৪টি দিন ধরে জীবনের শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন প্রসূতি মা সাথী আক্তার, আর তার গর্ভের ধন নিস্পাপ নবজাতকটি এখন হাসপাতালের আইসিইউর যান্ত্রিক চাদরে ঢাকা পড়ে গুনছে মৃত্যুর প্রহর।

​দিনটি ছিল গত ৫ জুলাই। প্রসব বেদনা নিয়ে যখন সাথী আক্তারকে আনোয়ারা হাসপাতালে আনা হয়, তখন পরিবারের চোখে ছিল নতুন অতিথিকে বরণ করার স্বপ্ন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও ১৫ হাজার টাকার চুক্তিতে নিরাপদে সিজারিয়ান অপারেশনের আশ্বাস দিয়ে অগ্রিম টাকা পকেটে পুরে নেয়। কিন্তু টাকার পেছনে অন্ধ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে ভেতরে ভেতরে এক নির্মম ফাঁদ পেতে রেখেছিল, তা কে জানত!

​অভিযোগ উঠেছে, কোনো বিশেষজ্ঞ সার্জন ছাড়াই, গভীর রাতে কিছু অদক্ষ নার্স আর স্টাফ মিলে জোরপূর্বক নরমাল ডেলিভারি করানোর এক পৈশাচিক চেষ্টা চালায়। সেই অদক্ষ হাতের টানাটানিতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় মায়ের প্রসবের রাস্তা। ফিনকি দিয়ে ছুটে আসে রক্ত। আর প্রসবকালীন নির্মম টানাহেঁচড়ার শিকার হয়ে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারাত্মক জখম হয় নিষ্পাপ শিশুটির মাথা ও ঘাড়।

​যখন পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়, রক্তে ভেসে যায় হাসপাতালের মেঝে, তখন নিজেদের পিঠ বাঁচাতে মুমূর্ষু মা ও শিশুকে তাড়াহুড়ো করে বের করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
​বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউর কাঁচের দেয়ালের ওপাশ থেকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকা শিশুটি যেন এক নীরব প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে এই সমাজের দিকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মায়ের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং শিশুর মাথায় ও ঘাড়ে লাগা আঘাত এতটাই গুরুতর যে, তাদের ফিরিয়ে আনা এখন অলৌকিক কিছু ঘটার মতোই।

​অথচ, যে জাহাঙ্গীর আলমের আনোয়ারা হাসপাতালে এই নির্মমতার জন্ম হলো, তিনি বুক ফুলিয়ে ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করছেন! তার দাবি, এমন কোনো রোগীই নাকি সেখানে যায়নি। একটি লিখিত অভিযোগ হাতে নিয়ে শ্রীপুর মডেল থানার বারান্দায় বারান্দায় ঘুরছেন ভুক্তভোগী প্রসূতির ভাই শাকিল আহমেদ। কিন্তু ১৪ দিন পার হয়ে গেলেও মেলেনি কোনো প্রতিকার, বুক চাপড়ে কাঁদা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছে না এই অসহায় পরিবারটি।

​এলাকাবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন—ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এই নামসর্বস্ব ক্লিনিকগুলো আর কত মায়ের কোল খালি করবে। আর কত শিশুর স্বপ্নকে আইসিইউর অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ঠেলে দেবে। ভুক্তভোগী পরিবারটি এখন আর শুধু চিকিৎসার খরচ চায় না, তারা চায় এই নির্মমতার দৃষ্টান্তমূলক বিচার যেন আর কোনো মাকে এভাবে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সন্তানের জন্য নীরবে অশ্রু বিসর্জন দিতে না হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2019 Breaking News
Theme Customized By BreakingNews