1. dailyprobatibangladesh@gmail.com : daily probati bangladesh : daily probati bangladesh
  2. live@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
  3. info@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ :
মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়: ইরানি নেতৃত্বের পতন ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের নজিরবিহীন পাল্টা আঘাত - দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দৌলতপুরে দেশনেত্রী ফোরামের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত পদ্মাসেতু টোল প্লাজায় অভিযান কোটি টাকার অবৈধ বাগদা রেণু জ ব্দ বেনাপোলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর গাড়িবহরে হা ম লা র ঘটনা ঘটেছে। ডুমুরিয়ায় সড়ক দু র্ঘ ট না য় এক জনের মৃ ত্যু। আরো অনেকে আ হ ত। শার্শায় বেনাপোল সীমান্ত পরিদর্শনে এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী আম মৌসুমকে সামনে রেখে সাপাহার সদরে যানজট নিরসনে প্রশাসনের বিশেষ অভিযান ইসলামী ব্যাংক খুরশীদ আলম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে গ্রাহক ফোরাম। সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫ জন পরোয়ানাভূক্ত আ সা মী কে গ্রে ফ তা র করেছে বিএনপি নেতা আসহাব উদ্দিন চৌধুরীর মায়ের দাফন সম্পন্ন চারঘাটে র‍্যাবের মা দ কবিরোধী অভিযান: ৩১৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ আ ট ক এক কারবারি

ভিডিও সংবাদ 👇👇

মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়: ইরানি নেতৃত্বের পতন ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের নজিরবিহীন পাল্টা আঘাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |হুসাইন বিল্লাহ- ঢাকা
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে গত কয়েক ঘণ্টা ধরে যা ঘটে চলেছে, তাকে সহজ ভাষায় ‘মহাপ্রলয়’ বললেও কম বলা হবে। একদিকে ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরায়েলের ইতিহাসের ভয়াবহতম বিমান হামলা, অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন এমনকি ব্রিটিশ ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ—সব মিলিয়ে বিশ্ব এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে; হু হু করে বাড়ছে তেল, সোনা ও ডলারের দাম।
১. ইরানের ওপর ‘ভূমিকম্পসম’ হামলা ও নেতৃত্বের বিপর্যয়
ঘটনার সূত্রপাত হয় আমেরিকা ও ইসরায়েলের এক যৌথ সামরিক অভিযান থেকে। ইরানি ভূখণ্ডে প্রায় ৯০০টি বিমান হামলা এবং অসংখ্য ক্রুজ ও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) এই অভিযানকে তাদের ইতিহাসের বৃহত্তম বিমান হামলা হিসেবে অভিহিত করেছে।
এই হামলার ক্ষয়ক্ষতি ইরানের জন্য অপূরণীয়। অসমর্থিত কিন্তু জোরালো সংবাদ অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এবং তার পরিবারের প্রায় সকল সদস্য (কন্যা, জামাতা ও নাতিসহ) নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইরানের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর শীর্ষ সারির প্রায় সব ব্যক্তিত্ব এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন:
* প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ।
* চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুর রহিম মুসাভি।
* রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) প্রধান মোহাম্মদ বাকপুর।
* পুলিশ গোয়েন্দা প্রধান গুলাম রেজা রেজাইয়ান।
এই বিশাল শূন্যতা পূরণে ইরান ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং এক সপ্তাহের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। জরুরি ভিত্তিতে রেভল্যুশনারি গার্ডের হাল ধরতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে আহমদ ভাহিদি-কে। তেহরানের রাস্তায় এখন শোকাতুর মানুষের ঢল, যাদের কণ্ঠে কেবলই প্রতিশোধের চিৎকার।
২. ইরানের ‘প্রতিশোধের আগুন’ ও উপসাগরীয় অঞ্চলে ধ্বংসযজ্ঞ
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলী লারিজানি ঘোষণা দিয়েছিলেন, “আমাদের হৃদয় যেমন পুড়েছে, আমরা আমেরিকা ও ইসরায়েলের হৃদয়ও জ্বালিয়ে দেব।” সেই ঘোষণার পরপরই ইরান তার বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার উন্মুক্ত করে দেয়। শুরু হয় ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’-এর চেয়েও ভয়াবহ এক আক্রমণ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপর্যয়:
সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। ইরান থেকে ছোড়া ১৩৭টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২০৯টি আত্মঘাতী ড্রোন আমিরাতের আকাশসীমায় আঘাত হানে। বিশ্বের উচ্চতম ভবন বুর্জ খলিফাকে লক্ষ্য করে তিনটি ড্রোন ছোড়া হয়, যা আকাশেই প্রতিহত করা হলেও ভবনের সামান্য ক্ষতি হয়েছে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর খবর হলো, দুবাইয়ে অবস্থিত মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (CIA)-এর আঞ্চলিক সদর দপ্তরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হেনেছে। বর্তমানে আমিরাত জুড়ে কঠোর সেন্সরশিপ জারি করা হয়েছে; কোনো ছবি বা ভিডিও ধারণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বাহরাইন ও সৌদি আরবে হামলা:
বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের (5th Fleet) ঘাঁটি আক্রান্ত হয়েছে। সেখানে এক বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবের রিয়াদের পূর্বাঞ্চল এবং প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। রিয়াদের আবাসিক এলাকায় বিশাল বিস্ফোরণের শব্দে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ওমান ও কাতারের পরিস্থিতি:
মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে পরিচিত ওমানও এবার ইরানি রোষানল থেকে বাঁচতে পারেনি। ওমান উপকূলে ‘Skylight’ নামক একটি তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওমানের দুকুম বন্দরে ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। কাতারেও ইরানি হামলায় ১৬ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে।
৩. ইসরায়েলে ইরানি আঘাতের ভয়াবহতা
ইসরায়েলের ভেতরকার পরিস্থিতিও এখন রণক্ষেত্রের মতো। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের একাধিক কৌশলগত স্থানে আঘাত হেনেছে:
* নেভাতিম বিমানঘাঁটি: যেখানে ইসরায়েলের গর্ব F-35 যুদ্ধবিমান রাখা হয়, সেখানে সরাসরি আঘাত লেগেছে।
* সোরেক পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র: আশকেলনে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বড় এই কেন্দ্রটি ধ্বংস হওয়ায় তেল আবিবসহ কয়েকটি শহরে পানি সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রাস্তাঘাটে উপচে পড়ছে পানি।
* জনবসতিতে ক্ষয়ক্ষতি: ইসরায়েলি অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৪৫৬ জন আহত হয়েছে। তেল আবিবে প্রায় ২০০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাইফা, সাফাদ এবং বীরশেবার মতো শহরগুলোতে অবিরাম সাইরেন বাজছে এবং লাখ লাখ মানুষ আন্ডারগ্রাউন্ড শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছে।
৪. ন্যাটোর বিরুদ্ধে প্রথম সরাসরি আঘাত?
যুদ্ধের পরিধি এখন মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে ইউরোপীয় স্বার্থের দিকেও এগোচ্ছে। ইরান সম্প্রতি সাইপ্রাসের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সাইপ্রাসে ব্রিটিশ বাহিনীর বিশাল ঘাঁটি এবং হাজার হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। যদি এটি নিশ্চিত হয়, তবে এটি হবে ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের ওপর ইরানের প্রথম সরাসরি হামলা, যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
৫. বিশ্ব অর্থনীতিতে যুদ্ধের কালো ছায়া
যুদ্ধের ডামাডোলে বিশ্ববাজার এখন টালমাটাল। বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা ও ডলারের দিকে ঝুঁকছেন।
* সোনা: মাত্র ২৪ ঘণ্টায় সোনার দাম পাউন্ড প্রতি প্রায় ৬০০ টাকা (বা সমমান মুদ্রা) বেড়েছে।
* তেল: হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইরান। ইতোমধ্যে কাতার তাদের ১১টি গ্যাস ট্যাংকারের চলাচল বন্ধ রেখেছে। ফলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
* মুদ্রাস্ফীতি: মিশরের মতো দেশগুলোতে ডলারের দাম রেকর্ড হারে বাড়ছে। এশিয়া ও ইউরোপে জ্বালানি সংকটের যে মেঘ জমছে, তা দীর্ঘস্থায়ী মন্দার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
উপসংহার: সামনে কী অপেক্ষা করছে?
বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ইরান এখন ‘অল-আউট’ যুদ্ধের পথে। তারা কেবল ইসরায়েল নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতির প্রতিটি বিন্দুতে আঘাত হানছে। ওমানের মতো বন্ধুপ্রতিম দেশকেও তারা ছাড় দিচ্ছে না। অন্যদিকে, ইসরায়েল ও আমেরিকা তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেবে, তার ওপর নির্ভর করছে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ।
বিশ্ববাসী এখন রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করছে—এই আগুনের শিখা কি নিভে যাবে, নাকি সভ্যতাকে গ্রাস করবে এক মহাযুদ্ধ? মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন, আর মাটির নিচে কাঁপছে বারুদের গন্ধ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট