
আঃহালিম আতিক টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
টাঙ্গাইলের টাকা হাওলাত না দেওয়ায় হত্যাকরে দীর্ঘ দুই দশক যাবত মসজিদের মোয়াজ্জেম মোশারফ হোসেন টাঙ্গাইল শহরে বসবাস করে। সেই দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে মোশারফের সাথে গৃহবধু নাজমা আলম ও তার পরিবারের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।সব সময় বাসার এক সেট চাবি ও সিসি ক্যামেরার পাসওয়ার্ড দেয়া ছিলো মোশারফের কাছে। সম্প্রতি মোশারফ ১৫ লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়। পরে নাজমার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন মোশারফ। টাকা দিতে অস্বীকার করায় কৌশলে নাজমাকে হাতুরি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে খাটের নিচ থেকে ২৯ হাজার টাকা নিয়ে চলে যান তিনি।মোশারফ নিজের স্বীকারোক্তিতে এমনই তথ্য জানিয়েছেন বলে জানান, টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন।
রুহুল আমিন জানান, এই ধারের টাকা না দেওয়ার কারনে নাজমা আলমকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর গলার চেইন, হাতের বালাও নিয়ে যান মোশারফ। এছাড়াও তাদের বাসার দুইটি হাতুরির মধ্যে একটি হত্যাকান্ডে ব্যবহার করা হয়েছে, সেটিও তিনি স্বীকার করেছেন।এদিকে নাজমা আলমকে হত্যার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ অভিযুক্ত মসজিদের মোয়াজ্জেম মোশারফ হোসেন ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেপ্তার করেছে। মোশারফ দেলদুয়ারের মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে। এসময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকারের অংশ, নগদ টাকা এবং ঘটনার আলামত উদ্ধার করা হয়।মঙ্গলবার দুপুরে থানায় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছি। প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় হত্যাকারী মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোশারফ নাজমাকে হত্যা করে এবং সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। পরবর্তীতে মোশারফ স্বর্ণসহ হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি সাথে করে নিয়ে যায়। মঙ্গলবার দুপুরে আসামীদের টাঙ্গাইল আদালতে পাঠানো হয়।উল্লেখ্য, গত রোববার সকালে গৃহবধূ নাজমা আলমকে নিজ বাড়িতে হাত-পা বাঁধা ও রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।