
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি
বিদায় অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের উপেক্ষা করে রাজনৈতিক প্রভাব—সচেতন মহলে প্রশ্ন, কোথায় যাচ্ছে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা?
ফেনীর লেমুয়া বাজার কেন্দ্রিক দুটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—লেমুয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও লেমুয়া উচ্চ বিদ্যালয়—দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর আস্থা, ভালোবাসা ও গর্বের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ইসলামী ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে এই প্রতিষ্ঠান দুটি গড়ে তুলেছে অসংখ্য শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু রাজনৈতিক প্রভাব শিক্ষা কার্যক্রম ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক আয়োজনকে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের মতো গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান না দিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষাঙ্গনে প্রশ্নবিদ্ধ চর্চা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে জ্ঞান, নৈতিকতা ও আদর্শের চর্চার কেন্দ্র হওয়া উচিত, সেখানে যদি প্রভাব ও ক্ষমতার প্রদর্শন প্রাধান্য পায়—তবে তা শিক্ষার্থীদের জন্য ভুল বার্তা বহন করে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অনেকেই বলছেন, এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে যে, শিক্ষকদের চেয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে গিয়ে রাজনীতির প্রতি অযথা ঝোঁক তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যে বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ
স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব তখনই ক্ষতিকর হয়ে ওঠে যখন—
শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়
শিক্ষার্থীরা সঠিক মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়
প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়
কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন
প্রতিষ্ঠান দুটির পরিচালনা কমিটি, প্রধান শিক্ষক এবং মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিন্টেন্ডেন্টের প্রতি এলাকাবাসীর কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—
১. আপনারা কি রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের প্রভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন?
২. কোনো প্রটোকলবিহীন ব্যক্তির ছবি সংবলিত উপহার প্রদান কি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযুক্ত?
৩. শিক্ষাবিদ ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রাধান্য দেওয়া কতটা যৌক্তিক?
করণীয় কী?
সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
✔️ সচেতনতা বৃদ্ধি: অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা বাড়াতে হবে।
✔️ শিক্ষকদের মর্যাদা নিশ্চিত: সকল অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
✔️ জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা: পরিচালনা কমিটির স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে হবে।
✔️ ঐক্য গড়ে তোলা: ব্যক্তি বা দল নয়, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে।
শেষ কথা
আজ যদি এই বিষয়গুলো উপেক্ষা করা হয়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি বিকৃত শিক্ষাব্যবস্থার মুখোমুখি হতে পারে। তবে সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতার মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও জ্ঞান, আদর্শ ও মানবিকতার আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
শিক্ষা হোক অগ্রাধিকার—রাজনীতি নয়।