
জলাশয় ভরাট করে গরুর খামার নির্মাণের অভিযোগ, বিপাকে পিরোজপুরের কৃষকরা
সৈয়দ আল রাজী, পিরোজপুর প্রতিনিধি:
পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার ঝনঝনিয়া মৌজায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর অধিগ্রহণকৃত একটি জলাশয় ভরাট করে গরু মোটাতাজাকরণ খামার নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, এতে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে আশপাশের শত শত হেক্টর কৃষিজমি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঝনঝনিয়া মৌজার জেএল নং-১, এসএ-১১২/১৩৪, বিআরএস-৭৫৪ ও ২২৭ দাগভুক্ত “সাতলা বাগদা বেরিবাঁধ প্রকল্প” এলাকার প্রায় ৯৫ শতাংশ জলাশয় ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মাছ চাষের উদ্দেশ্যে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড মোঃ নাঈম মোল্লা ও মোঃ শাহিন মোল্লার কাছে তিন বছরের জন্য ইজারা দেয়। জলাশয়টি অপদা সড়ক সংলগ্ন পাকুরতিয়া বাজারে মেসার্স প্রত্যাশা ট্রেডার্সের পেছনে অবস্থিত।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মাছ চাষের পরিবর্তে জলাশয়টি বালু ফেলে ভরাট করে সেখানে গরু মোটাতাজাকরণ খামার গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে জলাশয়ের স্বাভাবিক পানি চলাচল বন্ধ হয়ে আশপাশের কৃষিজমিতে সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, জলাশয়টির সঙ্গে খাল ও নদীর সংযোগ থাকায় আগে ইরি-বোরো মৌসুমে সহজেই জমিতে সেচের পানি পৌঁছাত। বর্তমানে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় খাল থেকে জমিতে পর্যাপ্ত পানি পৌঁছাচ্ছে না। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে ফসল নষ্ট হচ্ছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে কৃষকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে মোঃ আতাহার তালুকদার, মোঃ মঞ্জু শেখ, মোঃ টুটুল শেখ, মোঃ রকিব শেখ ও মোঃ সোহরাব ফকিরসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রায় তিন মাস আগে গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজস্ব কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, প্রভাবশালীদের অর্থ ও ক্ষমতার কারণে বিষয়টি বারবার ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে।
এদিকে পাকুরতিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরাও খামারটির কারণে চরম ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, মূল সড়ক সংলগ্ন খামার থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং পুরো এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ব্যবসা পরিচালনায় যেমন সমস্যা হচ্ছে, তেমনি দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ পথচারীরাও।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাঈম মোল্লা ও শাহিন মোল্লার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তারা কথা বলতে রাজি হননি।
তবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর গোপালগঞ্জ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আনিছ হায়দার খান বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এখন অবগত হয়েছি। সরেজমিনে কর্মকর্তা পাঠিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, জমির সীমানা পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার আওতাধীন হলেও দখলকৃত জলাশয়টি গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।