
উজ্জ্বল চন্দ্র মন্ডল, (মাদারীপুর)
বালিগ্রাম ভূমি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব সরকারি সেবা যেখানে মানুষের দোরগোড়ায় সহজে পৌঁছে দেওয়ার কথা, সেখানে মাদারীপুরের একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিণত হয়েছে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার ফাঁদে। মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলাধীন বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবাগ্রহীতাদের চরম হয়রানির অভিযোগ। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনায় অতিষ্ঠ স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তথ্য সংগ্রহে গেলে সংবাদকর্মীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগও পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
বালিগ্রাম ভূমি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব আজ ১৩ মে ২০২৬ ইং তারিখ, বুধবার, বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দিনের আলোতেই ঘটে এক নজিরবিহীন ঘটনা। নিয়মের তোয়াক্কা না করে ঘুষ বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির সংবাদ সংগ্রহ করতে যান প্রভাতী বাংলাদেশের মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দুপুরের অফিস চলাকালীন সময়েও প্রধান কর্মকর্তাদের অনেকেই আসনে নেই। সেবাগ্রহীতারা দূর-দূরান্ত থেকে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, অথচ তাদের ফাইল আটকে রেখে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হচ্ছে। এই অনিয়মের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলেই বাধে বিপত্তি।
ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের তীর সরাসরি ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান এবং অফিস সহকারী দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে জানা যায়, বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের চিত্রটি জনবান্ধব হওয়ার পরিবর্তে সাধারণ মানুষের জন্য ভীতি ও ভোগান্তির স্থানে পরিণত হয়েছে। কর্মকর্তা-कर्मचारियों অফিসে আসেন নিজেদের মন-মর্জি অনুযায়ী, মানেন না সরকারি অফিস সময়সূচী।
স্থানীয় প্রশাসনের ঢিলেঢালা নজরদারি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নাম ভাঙিয়ে পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতির কারণেই এই অফিসের দুর্নীতি আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। মিউটেশন (নামজারি), পর্চা উত্তোলন বা ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের প্রতিটি ধাপে সরকার নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে মাসের পর মাস ঘুরতে হয় সেবাগ্রহীতাদের। নির্দিষ্ট সময় পার হলেও অফিসে কর্মকর্তাদের দেখা মেলে না। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করলে কর্মকর্তারা সরাসরি সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। তারা কোনো নিয়ম বা আইনের তোয়াক্কা করেন না। বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবাগ্রহীতাদের চরম হয়রানির অভিযোগ। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনায় অতিষ্ঠ স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তথ্য সংগ্রহে গেলে সংবাদকর্মীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগও পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
অফিস সহকারী দেলোয়ার হোসেন নিজেকে দীর্ঘ ১২ বছর মাদারীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) অফিসে কর্মরত ছিলেন বলে দাপট দেখান। তিনি দাবি করেন, ডিসি অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তারা তার হাতের মুঠোয়। অনিয়মের বিষয়ে প্রশ্ন করলে কর্মকর্তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা ডিসি অফিসের ছত্রছায়ার দাপট দেখান। তারা দাবি করেন, ওপর মহলের আশীর্বাদেই তারা চলছেন, তাই অভিযোগ করেও কোনো লাভ নেই।
বালিগ্রাম ভূমি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব আজ ১৩ মে তথ্যের সন্ধানে গেলে এই প্রতিবেদককে সরাসরি সরকারি কাজে বাধা প্রদান করা হয়। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অফিস টাইমে অনুপস্থিত থাকায় অফিস সহকারী দেলোয়ার হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। দেলোয়ার হোসেন এক পর্যায়ে ১২ বছর ডিসি অফিসে কাজ করার ক্ষমতা উল্লেখ করে প্রশাসনিক ভয় দেখানোর চেষ্টা করে এবং আমাকে কাজ থেকে বিরত থাকার হুমকি দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, মোবাইল বের করে কল দেওয়ার ভঙ্গিতে কোনো এক অজ্ঞাত ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণভাবে বলে, “নে তোর বাবারে কল দিচ্ছি।” পেশাগত দায়িত্ব পালনকালীন এমন কুরুচিপূর্ণ ও অশালীন মন্তব্য করা একজন সরকারি কর্মচারীর চরম নৈতিকতার অবক্ষয় ও গুরুতর অপরাধের সামিল যা সরকারের ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন ও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা একাধিক স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এই অফিসে টাকা ছাড়া কোনো ফাইল নড়ে না। সাধারণ কৃষকরা তাদের পৈতৃক সম্পত্তির রেকর্ড সংশোধন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত শোষিত হচ্ছেন। প্রতিবাদ করলেই আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে হয়রানি করা হয়। বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবাগ্রহীতাদের চরম হয়রানির অভিযোগ। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনায় অতিষ্ঠ স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তথ্য সংগ্রহে গেলে সংবাদকর্মীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগও পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, নামজারির সরকারি ফি মাত্র ১,১70 টাকা হলেও এই অফিসে সর্বনিম্ন ৫,০০০ থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান, তাদের ফাইলে নানা ধরনের কাল্পনিক ভুল ধরে মাসের পর মাস টেবিল থেকে টেবিলে ঘুরানো হয়।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এই চিত্র প্রমাণ করে যে, মাঠ পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা সরকারের ডিজিটাল ভূমি সেবার মহৎ উদ্যোগকে নস্যাৎ করতে চাইছে। মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলাধীন বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের বিরুদ্ধে উঠেছে অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবাগ্রহীতাদের চরম হয়রানির অভিযোগ। সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং কর্মকর্তাদের খামখেয়ালিপনায় অতিষ্ঠ স্থানীয় সাধারণ মানুষ। তথ্য সংগ্রহে গেলে সংবাদকর্মীকে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগও পাওয়া গেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা: সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। সরকারি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এমন অরাজকতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এসব অসংগতি দূর করতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল। একই সাথে সাংবাদিককে হুমকি ও কটূক্তিকারী অফিস সহকারী দেলোয়ার হোসেনের দ্রুত অপসারণ ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদকর্মী ও সুশীল সমাজ।