
রাজশাহীতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী।
রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। শনিবার (৯ মে) বিকেলে রাজশাহী জেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ক্রীড়াবিদ, অভিভাবক, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী ও দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই প্রতিযোগিতা থেকে উঠে আসা শিশু-কিশোররাই একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের সুনাম বয়ে আনবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, যারা এবার সফল হয়েছে তাদের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় প্রতিভা। তিনি প্রত্যাশা করেন, এসব তরুণ ক্রীড়াবিদ একসময় দেশ ও রাজশাহীর মর্যাদা আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে।
ভূমিমন্ত্রী আরও জানান, প্রতিযোগিতায় যারা নিজেদের মেধা ও যোগ্যতার প্রমাণ দেবে, তাদের জাতীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-তে ভর্তির ক্ষেত্রেও অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে।
রাজশাহীর ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাজশাহীর জাতীয় স্টেডিয়ামের নাম বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের নামে নামকরণ করা হবে। এছাড়া স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইট স্থাপন, পুরোনো অবকাঠামো সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন খেলার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই রাজশাহীতে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট, আন্তর্জাতিক ফুটবলসহ বড় বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন ও অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আল মামুন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া পরিষদ রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. আরিফুজ্জামান সোহেল, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাদের উৎসবসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় সুধীজন।
অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার, ক্রেস্ট, ট্রফি ও সনদ তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম এলাকা।
উল্লেখ্য, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সরকার ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালু করেছে। ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোররা ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিনটন, দাবা, মার্শাল আর্ট ও সাঁতারসহ আটটি খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাচ্ছে।