
শালিকের আত্মসাৎ কৃত টাকা ফেরত চাওয়ায় অপহরণের নাটক সাজান স্বাধীন
#৫ মাসে প্রায় ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ
#মালিকের অনুপস্থিতিতে পুরনো স্টাফ ছাটাই করে গড়ে তুলে নিজস্ব বলয়
# একাধিক নারী স্টাফদের যৌন হয়রানির সাথে শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ
মোহাম্মদ আরিফ উপজেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজারের কলাতলীর অভিজাত শালিক রেস্টুরেন্টের জেনারেল ম্যানেজার মুজিবুর রহমান স্বাধীনের বিরুদ্ধে রেস্টুরেন্টের মালিক নাছির উদ্দীন বাচ্চুর অনুপস্থিতিতে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ সহ একাধিক নারী স্টাফদের যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শালিক রেস্টুরেন্টের মালিক নাছির উদ্দীন বাচ্চু ঢাকায় অবস্থান করার সুবাদে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করার জন্য তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু মুজিবুর রহমান স্বাধীনকে জিএম হিসেবে নিযুক্ত করে। সরল মনে বন্ধুকে বিশ্বাস করে নাছির উদ্দীন প্রতিষ্ঠান হিসেব নিকেশ থেকে শুরু করে অল ইন অল দায়িত্ব জিএম স্বাধীনের উপর ছেড়ে দেয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে বেপরোয়া হয়ে উঠে স্বাধীন, রেস্টুরেন্টের বহু বছরের পুরনো স্টাফ ছাটাই করে গড়ে তুলেন নিজস্ব বলয়, তার কথা না শুনলেই হারাতে হত চাকরি। সেই সুবাদে স্বাধীন মাত্র পাঁচ মাসেই গুছিয়ে নেন নিজের আখের। রেস্টুরেন্টের মালিককে নয় ছয় বুজিয়ে অল্প সময়ে প্রতিষ্ঠান থেকে হাতিয়ে নেন ৯০ লাখ টাকার ও বেশি। মাত্র দু-মাসের মধ্যে পূর্বের ব্যবহৃিত ৩৫ হাজার টাকা দামের পুরনো বাইক বিক্রি করে কিনে নেন অভিজাত মোটরসাইকেল রয়েল এনফিল্ড। টাকা আত্মসাৎ এর পাশাপাশি রেস্টুরেন্টে নিয়োগ দেওয়া নারী স্টাফদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে গড়ে তুলে শারিরীক সম্পর্ক, তার কথা না শুনলেই হারাতে হত চাকরি। প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে এমনি এক চাঞ্চল্যকর তথ্যের সন্ধান পাওয়া যায়। কক্সবাজারের সদর উপজেলার লিংক রোডের বাসিন্দা শালিকে কর্মরত এক নারী স্টাফ (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জানান, স্বাধীন স্যারের যৌন হয়রানিতে অতিষ্ঠ হয়ে চাকরি রিজাইন দিয়ে দিছি, আমাকে মানসিকভাবে অনেক অত্যাচার করছে জিএম স্বাধীন। নারী স্টাফটি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমার সাথে যা করছে তার বিচার চাই আমি। আমি মুখ দিয়ে বলতে পারতেছি না কেমন কেমন কুপ্রস্তাব ওনি আমাকে দিছে। আমি শুধু কান্না করতাম আপনি রেস্টুরেন্টে গিয়ে আমার সকল সহকর্মীদের আমার নাম বললেই বিস্তারিত জানতে পারবেন। ( ভিকটিমের অডিও রেকর্ড প্রতিবেদকের হাতে সংরক্ষিত আছে।
একই অভিযোগ রেস্টুরেন্টে কর্মরত উপজাতি নারী স্টাফের। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই উপজাতি নারী জানান, আমার পারিবারিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চাকরী হারানোর ভয় দেখিয়ে জিএম স্বাধীন আমার বেশকয়েকবার শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করে আমি প্রেগন্যান্ট। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।
এদিকে জিএম স্বাধীনের অত্যচার যৌন হয়রানি, টাকা আত্মসাৎ এবং স্টাফরা স্যালারী না পেয়ে মালিক নাছির উদ্দীন কে অভিযোগ জানালে স্বাধীন কে ঢাকায় আসতে বলেন মালিক নাছির উদ্দীন। ঢাকায় গিয়ে বিগত পাঁচ মাসের হিসেব এবং আত্মসাৎ কৃত টাকা ফেরত ও নারী স্টাফদের যৌন হয়রানির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাধীন মালিক নাছির উদ্দীনের চটে যান, ঘটনা অস্বীকার করেন। এক পর্যায়ে টাকা আত্মসাৎ এর প্রমাণ দেখালে স্বাধীন ঢাকায় অবস্থান করা তার বন্ধু ও কিছু গুন্ডা ভাড়া করে গুম এবং অপহরণের নাটক সাজিয়ে মালিক নাছির উদ্দিন কে ফাঁসানোর চেষ্টা করে।
বিস্তারিত জানতে প্রতিবেদক কথা বলেন রেস্টুরেন্টের শেফ রিয়াদের সাথে, শেফ রিয়াদ জানান জিএম স্বাধীন রেস্টুরেন্টকে লুটেপুটে খেয়ে স্টাফ দের স্যালারী আটকায় রাখছে।
রেস্টুরেন্টে কর্মরত ওয়েটার মিজানের সাথে কথা বললে মিজান জানান, আমাদের হক স্যালারীর টাকা আত্মসাৎ করে জিএম স্বাধীন কখনো মানুষ হতে পারবে না। আমরা তার সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে এতদিন ভয়ে মুখ খুলতে পারি নি, আজ খুললাম।
এ বিষয়ে জানতে শালিক রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারীর নাছির উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার প্রতিষ্ঠান শেষ করে দিছে স্বাধীন আমার সরল বিশ্বসের সুযোগে। আমার প্রায় ৯০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে টাকা ফেরত চাওয়ায় উল্টো অপহরণ করে মারধরের নাটক সাজিয়েছে। তিনি আরও জানান আমার প্রতিষ্ঠানের নারী স্টাফদের যৌন হয়রানি ধর্ষনের মত জঘন্য ঘটনা ঘটাইছে যা আমার প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। আমি আমার টাকা ফেরত চাই এবং নারী স্টাফদের যৌন হয়রানির বিচার চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জিএম মুজিবুর রহমান স্বাধীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নাছির ও তার সহযোগী সাজ্জাদ তাকে কৌশলে অপহরণ এবং প্রায় ৬০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কিন্তু টাকা দেওয়ার কোনো প্রমাণ নেই বলেও দাবী করেন মুজিব। এদিকে নিজেকে সামান্য ম্যানেজার এবং বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দাবী করলেও এতো টাকার উৎস কোথায় জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদকের সাথে পরে কথা বলবেন বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।