1. dailyprobatibangladesh@gmail.com : daily probati bangladesh : daily probati bangladesh
  2. live@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
  3. info@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ :
শরীয়তপুরে গা শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ড প্রবাসী স্বামীকে খুন করে লাশ টুকরো করে ফ্রিজে রাখলেন স্ত্রী - দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সীমান্তে ৩৫ বিজিবির বড় সাফল্য বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, কসমেটিকস ও জিরা জব্দ বগুড়ায় র‌্যাবের ঝটিকা অভিযান ৩০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি মতিন আটক শরীয়তপুরে গা শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ড প্রবাসী স্বামীকে খুন করে লাশ টুকরো করে ফ্রিজে রাখলেন স্ত্রী সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও একমি গ্রুপের সাবেক এমডি মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই রাজনৈতিক ও শিল্পাঙ্গনে গভীর শোক নরসিংদীতে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষনের ভিযোগে গ্রে ফ তা র ১ রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ দাবি করায় ‘চাঁদাবাজ’ অপপ্রচারের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীর দাবি চান্দিনা থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ওয়ারেন্ট ভুক্ত আ সা মী সহ গ্রে ফ তা র ৪ জন। কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান সানোয়ার হোসেন গ্রে ফ তা র। লৌহজংয়ে বিএনপি নেতা কোহিনুর শিকদারের স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিতঃ ভোলায় ২০ কেজি গাঁজাসহ একজন মাদক কারবারি আটক।

ভিডিও সংবাদ 👇👇

শরীয়তপুরে গা শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ড প্রবাসী স্বামীকে খুন করে লাশ টুকরো করে ফ্রিজে রাখলেন স্ত্রী

শরীয়তপুর প্রতিনিধি প্রভাতী বাংলাদেশ
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে
শরীয়তপুরে স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রী আটক।
শরীয়তপুরে প্রবাসী স্বামীকে হত্যার পর লাশ টুকরো করার ঘটনায় অভিযুক্ত স্ত্রী আসমা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ। ছবি: প্রভাতী বাংলাদেশ।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি প্রভাতী বাংলাদেশ

শরীয়তপুর: শরীয়তপুর সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক মালয়েশিয়া-প্রবাসী স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করার পর লাশ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রাখার চাঞ্চল্যকর ও গা শিউরে ওঠা অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহের হাড় ও মাংস আলাদা করে ড্রামে ভরে রাখা হয়। পরবর্তীতে মরদেহের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে অবশিষ্ট মাংস ফ্রিজে সংরক্ষণ করতে গিয়ে স্থানীয় জনতার সহায়তায় পুলিশের হাতে ধরা পড়েন ঘাতক স্ত্রী আসমা আক্তার (৩৫)। এই লোমহর্ষক ঘটনায় পুরো শরীয়তপুর জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, নিহত প্রবাসী জিয়া সরদারের বাড়ি শরীয়তপুর জেলাতেই। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আসমা আক্তারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে এটি তাঁদের উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। বিয়ের পর প্রথম দিকে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও, কিছুদিন পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে নানা কারণে কলহ শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই পারিবারিক বিরোধ সম্প্রতি চরম ও হিংস্র আকার ধারণ করে। জিয়া সরদার বিদেশ থেকে ফেরার পর থেকেই তাঁদের মধ্যে আর্থিক ও ব্যক্তিগত নানা বিষয়ে প্রতিনিয়ত ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত।

মামলার বিবরণ ও পুলিশি তদন্তে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১২ মে, ২০২৬) রাতে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে চরম উত্তেজিত হয়ে স্ত্রী আসমা আক্তার একটি ভারী লোহার রড দিয়ে স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। রডের প্রচণ্ড আঘাতে মাথার খুলি ফেটে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন প্রবাসী জিয়া সরদার। স্বামী মারা যাওয়ার পর ভয় পেয়ে আসমা আক্তার বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এক বীভৎস পরিকল্পনা করেন। তিনি একটি ধারালো ছুরি দিয়ে স্বামীর মৃতদেহ কেটে কয়েক টুকরো করেন। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তিনি মরদেহের হাড় এবং মাংস আলাদা করেন। এরপর রক্তমাখা দেহাংশগুলো একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতরে ভরে ঘরের কোণায় লুকিয়ে রাখেন। এভাবে ড্রামবন্দি লাশ নিয়ে ঘাতক স্ত্রী ওই ভাড়া বাসায় টানা তিন দিন অবস্থান করেন।

টানা তিন দিন পার হওয়ার পর মরদেহটিতে পচন ধরতে শুরু করলে আসমা আক্তার দেহাংশগুলো গুম করার সিদ্ধান্ত নেন। গত শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) সন্ধ্যায় তিনি একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন। এরপর স্বামীর দেহাংশের কয়েকটি টুকরো বস্তায় ভরে অটোরিকশায় করে বিভিন্ন নির্জন স্থানে ফেলে দেন। পরবর্তীতে অবশিষ্ট মাংসের অংশগুলো ফ্রিজে রেখে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার তাঁর পূর্বের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। কিন্তু ততক্ষণে মাংসের টুকরো থেকে তীব্র ও অসহ্য পচা দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। আসমার আচরণ এবং ঘর থেকে আসা তীব্র দুর্গন্ধে আশেপাশের প্রতিবেশীদের মনে চরম সন্দেহ জাগে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পালং মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমা আক্তারকে হাতেনাতে আটক করে এবং তল্লাশি চালিয়ে ফ্রিজ ও ঘর থেকে মানুষের মাংসের টুকরোগুলো উদ্ধার করে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আসমা আক্তার তাঁর স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। কান্নাব জড়িত কণ্ঠে তিনি দাবি করেন, “আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে নানা অজুহাতে অমানুষিক মারধর করত। ঘটনার দিনও আমাদের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়া হচ্ছিল। এক পর্যায়ে সহ্য করতে না পেরে আমি রড দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করি। আঘাতের পর সে মাটিতে পড়ে গিয়ে মারা যায়। আমি আসলে বুঝতে পারিনি যে এত বড় মারাত্মক ঘটনা ঘটে যাবে। পরে ভয়ে আমি লাশটি টুকরো করি। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শরীয়তপুরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ড্রামে ভরে রেখেছিলেন ওই নারী। পরবর্তীতে লাশের কিছু অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে বাকি অংশ ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। স্থানীয় জনতার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিকে আটক করেছি। ঘাতক স্ত্রীর দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহের বিচ্ছিন্ন অংশগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।” ওসি আরও জানান, লাশের ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কি না, কিংবা এর পেছনে পরকীয়া বা অন্য কোনো গভীর রহস্য রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আসামির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট