
জিহাদ কাজী, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি
উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার বগুড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় জেলা শহরের সূত্রাপুর এলাকায় এক সফল অভিযান পরিচালনা করে ৩০ পিস ইয়াবাসহ এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে গ্রেফতার করেছে এলিট ফোর্স র্যাব-১২। শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) দিবাগত রাতে শহরের প্রাণকেন্দ্রের একটি ব্যস্ততম সড়কে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটক মাদক কারবারির নাম মোঃ মতিন ফকির (২৬)। সে দীর্ঘদিন ধরে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলায় মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে।
র্যাব-১২, সিপিএসসি বগুড়া ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার জানান, শুক্রবার রাতে তাদের কাছে একটি গোপন ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ আসে যে, বগুড়া সদর থানার ঘোড়াপট্টি রোডের সূত্রাপুর এলাকায় কতিপয় মাদক কারবারি বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি চৌকস আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে র্যাবের দলটি সূত্রাপুর এলাকায় অবস্থান নিলে তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে এক যুবক পালানোর চেষ্টা করে। তবে র্যাব সদস্যরা অত্যন্ত তৎপরতার সাথে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাকে অন দ্য স্পট আটক করতে সক্ষম হন। পরে উপস্থিত স্থানীয় সাধারণ জনগণের সামনে আটক যুবকের দেহ তল্লাশি করা হলে তার হেফাজত থেকে নিষিদ্ধ ও জীবনধ্বংসকারী ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত কিছু নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক যুবক তার অপরাধ স্বীকার করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, গ্রেফতারকৃত আসামির নাম মোঃ মতিন ফকির (২৬)। সে বগুড়া জেলার কাহালু উপজেলার অঘোরা মালঞ্চা এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত রশিদ ফকিরের ছেলে। যুব সমাজের কাছে সে “ইয়াবা মতিন” নামে পরিচিত ছিল। কাহালু এলাকার বাসিন্দা হলেও সে মূলত বগুড়া সদর ও তার আশেপাশের বিভিন্ন পয়েন্টে খুচরা ও পাইকারি মাদক সাপ্লাই দিয়ে আসছিল।
র্যাবের প্রাথমিক অনুসন্ধান ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক মতিন ফকির পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। সে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ এড়াতে প্রতিনিয়ত কৌশল পরিবর্তন করতো। বিশেষ করে শহরের সূত্রাপুর, ঘোড়াপট্টি রোড এবং স্টেশন সংলগ্ন এলাকাগুলোকে সে মাদক বিক্রির সেফ জোন হিসেবে ব্যবহার করতো। বিভিন্ন জেলা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে সে বগুড়ার স্থানীয় উঠতি বয়সী তরুণ ও শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে এই মরণনেশা সরবরাহ করতো। তার এই মাদক বাণিজ্যের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছিল এবং চুরির মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন।
অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট এবং অন্যান্য আলামতসহ আটক মতিন ফকিরকে বগুড়া সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র্যাব বাদী হয়ে আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮ (সংশোধিত) এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে। বগুড়া সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হতে পারে, যাতে তার এই সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত অন্যান্য মূল হোতাদের নাম এবং মাদকের মূল উৎস খুঁজে বের করা যায়।
র্যাব-১২ বগুড়া ক্যাম্পের পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে যে, যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে তাদের এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা চোরাকারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের মূল উপড়ে ফেলতে তারা গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করেছেন। চকরিয়া থেকে শুরু করে বগুড়া—সারাদেশেই মাদকের বিরুদ্ধে র্যাবের এই “জিরো টলারেন্স” নীতি সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে। সূত্রাপুর এলাকার স্থানীয় সুধী সমাজ র্যাবের এই ঝটিকা অভিযান ও মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত এমন অভিযানের দাবি জানিয়েছেন।