
দিঘলিয়ায় চায়ের দোকানে হামলা ও কুপিয়ে জখমের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ
মোঃ সেলিম রেজা
খুলনা
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলা উপজেলার হাজীগ্রাম এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হামলা, মারপিট, কুপিয়ে জখম, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই এবং দোকান ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দিঘলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন হাজীগ্রাম এলাকার বাসিন্দা মোঃ আবুল হোসেন (৫০)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মে ২০২৬ তারিখে স্থানীয় যুবক রোহান (২১) এর সঙ্গে অভিযুক্ত তারেক শেখের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় আবুল হোসেনের ছেলে নাজমুল শেখ (২৪) উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত তারেক শেখ তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। পরে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এর জের ধরে ১৭ মে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে হাজীগ্রাম গ্রামের জাহিদ মোল্যার চায়ের দোকানে অবস্থানকালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে অভিযুক্ত আজিজুল শেখ, কাদের শেখ, তারেক শেখ, রবিউল শেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নাজমুলের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলায় নাজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার একপর্যায়ে অভিযুক্ত কাদের শেখ নাজমুলের প্যান্টের পকেটে থাকা কাজের নগদ ১০ হাজার ৪০০ টাকা নিয়ে যান। একই সঙ্গে জাহিদ মোল্যার চায়ের দোকান ভাংচুর করে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়।
পরবর্তীতে আহত নাজমুল বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি পরিবারকে জানালে একই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে আবুল হোসেন, তার ভাই শরিফুল (৩৫) ও শ্যালক ওয়াসীম (৩৫) অভিযুক্তদের বাড়িতে যান। সেখানে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্তরা তাদের ওপর চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক পর্যায়ে অভিযুক্ত কাদের শেখ ও রবিউল শেখ তাদের হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে শরিফুল ও ওয়াসীমকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে মাথা ও হাতে রক্তাক্ত জখম করেন। এছাড়া আজিজুল শেখ ও তারেক শেখ আবুল হোসেনকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আহত করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এসময় অভিযুক্ত তারেক শেখ ওয়াসীমের ব্যবহৃত প্রায় ১৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্মার্টফোন নিয়ে যান বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে চলে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে দিঘলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের চিকিৎসা প্রদান করেন।
পারিবারিক ও আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে আলোচনা শেষে ভুক্তভোগী পরিবার দিঘলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।