
আরমান হোসেন ফয়সাল, লোহাগাড়া প্রতিনিধি
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম: কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। দ্রুতগামী যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে আধুনগর ইসলামিয়া মাদ্রাসার এক আবাসিক ছাত্র গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। দুর্ঘটনার তীব্রতায় সিএনজিটি একেবারে দুমড়েমুচড়ে যায় এবং আহত শিক্ষার্থীর অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকদের অক্লান্ত চেষ্টা সত্ত্বেও তার বেঁচে থাকার আশা অত্যন্ত ক্ষীণ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে লোহাগাড়া উপজেলার বিদ্যুৎ অফিস ও ইটারি এলাকার মাঝামাঝি স্থানে। আহত ছাত্রের নাম ও বিস্তারিত পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পুরোপুরি নিশ্চিত করা না গেলেও জানা গেছে, সে আধুনগর ইসলামিয়া মাদ্রাসার আবাসিক বিভাগের ছাত্র এবং তার স্থায়ী বাড়ি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার আমিরাবাদ এলাকায়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (১৭ মে, ২০২৬) দুপুরের দিকে ওই মাদ্রাসা ছাত্র চকরিয়ার আমিরাবাদ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে লোহাগাড়ার আধুনগর ইসলামিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে আসছিল। সিএনজিটি কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার বিদ্যুৎ অফিস ও ইটারি এলাকার মাঝামাঝি নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা চট্টগ্রামমুখী দ্রুতগতির ‘হানিফ পরিবহন’ এর একটি যাত্রীবাহী বাস সিএনজিটিকে সরাসরি সমুখভাগে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দেয়। বাসের ধাক্কায় সিএনজিটি মহাসড়ক থেকে ছিটকে পড়ে এবং সামনের অংশ পুরোপুরি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে সিএনজির ভেতরে থাকা ওই মাদ্রাসা ছাত্র মাথায়, বুকে ও পায়ে প্রচণ্ড আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় এবং উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা দুমড়েমুচড়ে যাওয়া সিএনজির ভেতর থেকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় ওই মাদ্রাসা ছাত্রকে উদ্ধার করেন। এরপর তাকে অনতিবিলম্বে লোহাগাড়ার নিকটস্থ আধুনিক বেসরকারি হাসপাতাল ‘নিউ সাউন্ড হেলথ হাসপাতাল’-এ নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ওই ছাত্রের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় স্যালাইন ও লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার চেষ্টা করা হলেও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। রোগীর শারীরিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকায় এবং লোহাগাড়ায় পর্যাপ্ত উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায়, কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসার (ICU) জন্য জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে আহত ছাত্রকে বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্স যোগে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার জ্ঞান ফেরেনি এবং তার জীবন এখন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে লোহাগাড়ার আধুনগর ইসলামিয়া মাদ্রাসা এবং আহত ছাত্রের গ্রামের বাড়ি চকরিয়ার আমিরাবাদ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। মাদ্রাসার শিক্ষক, সহপাঠী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা চমেক হাসপাতালে ছুটে গেছেন। সহপাঠী ও শিক্ষকরা তাদের প্রিয় আবাসিক ছাত্রের এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে আহত মাদ্রাসা ছাত্রের দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা করা হচ্ছে। মহান আল্লাহ তাআলা যেন এই তরুণ শিক্ষার্থীকে দ্রুত সুস্থ করে তার মা-বাবার কোলে ফিরিয়ে দেন, লোহাগাড়াবাসী সেই মোনাজাতই করছেন। একই সাথে লোহাগাড়া উপজেলার সর্বস্তরের সুধীসমাজ এই মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো দূরপাল্লার বাসগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হাইওয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।