
হবিগঞ্জের পরিবহন ধর্মঘট, ভোগান্তিতে হাজার হাজার সাধারণ যাত্রীগণ।
গাজী আলী আকবর শ্যামল হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
বাস মালিক শ্রমিকের ধর্মঘটের কারণে হবিগঞ্জ থেকে সিলেট, মৌলভীবাজারসহ জেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রাস্তার বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী, চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও রোগীরা।
সোমবার (১৮ মে) সকালে হবিগঞ্জ শহরের পৌর বাস টার্মিনাল ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে দেখা যায়, টার্মিনালে সারিবদ্ধভাবে বাস দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।টানা দুই দিন ধরে এই ধর্মঘট পালন করা হচ্ছে। শত শত যাত্রী বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করলেও বাস না পেয়ে অনেককে বিকল্প যানবাহনে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। কেউ কেউ আবার নিরুপায় হয়ে বাড়ি ফিরে যায়।
পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মৌলভীবাজার এলাকায় হবিগঞ্জের বিরতিহীন বাস আটকে শ্রমিকদের মারধর ও বাস ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত শনিবার শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন পরিবহন শ্রমিকরা। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও সমস্যার কার্যকর সমাধান না হওয়ায় রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ মে মৌলভীবাজারের শেরপুর এলাকায় হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে যাওয়া কয়েকটি বাস আটকে দেওয়া হয়। এ সময় কয়েকজন শ্রমিককে মারধর এবং বাসে হামলার ঘটনাও ঘটে। বিষয়টি সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার ও হবিগঞ্জে একাধিকবার আলোচনা হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় জেলার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্তে যাওয়া রোগী, পরীক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং দ্রুত সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
এর আগেও একই দাবিতে গত মঙ্গলবার (১২ মে) অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট এবং শনিবার (১৬ মে) ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে হবিগঞ্জ মোটর মালিক সমিতি। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে দুই দফায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।