
চিকিৎসাধীন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ, পরদিন রেলস্টেশনে মিললো মরদেহ
মানুষ জীবন বাঁচানোর আশায় হাসপাতালে যায়। কিন্তু সেই হাসপাতাল থেকেই এক অসহায় রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে পুরো জেলায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মফিজুর রহমান চিকিৎসাধীন এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবু বক্কর ও জাকের ওই অসহায় ব্যক্তিকে ফেনী রেলস্টেশন এলাকায় ফেলে রেখে আসেন। পরদিন সেই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানা গেছে, গত ৪ মে কিছু মানবিক ব্যক্তি অচেতন অবস্থায় অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে তিনি হাসপাতালের একটি বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও হাসপাতালেই চিকিৎসা চলছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মফিজুর রহমান ওই রোগীকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী আবু বক্কর ও জাকের তাকে ফেনী রেলস্টেশন এলাকায় নিয়ে গিয়ে ফেলে রেখে আসেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ বিকেলে রেলস্টেশন এলাকায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বিষয়টি জানাজানি হলে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন চিকিৎসাধীন মানুষকে এভাবে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া শুধু অমানবিকই নয়, এটি গুরুতর অপরাধ। পরিচয়হীন কিংবা অসহায় হওয়ায় একজন মানুষ ন্যূনতম মানবিক আচরণ থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন না।
এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একইসঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। কেউ যদি ওই ব্যক্তিকে চিনে থাকেন বা তার পরিবারের সন্ধান জানেন, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।