
ধার নেওয়া টাকাকে সুদে বাড়িয়ে আদায় এবং স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্পের অপব্যবহার করে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন রাজশাহীর বাঘা উপজেলার সাবেক দুইবারের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোছাঃ ফাতেমা খাতুন লতা। একই সঙ্গে তার সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে চরিত্র হনন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (২৩ মে) সকাল ১১টায় রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এসব অভিযোগ করেন ফাতেমা খাতুন লতা।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, পারিবারিক ও আর্থিক সম্পর্কের সূত্র ধরে তার ভাজতি জামাই নুরুজ্জামানের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে তিনি টাকা ধার নিয়েছিলেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালের উপনির্বাচনের সময় নেওয়া ধার ভোট শেষে সুদ-আসলসহ পরিশোধ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ফাতেমা খাতুন লতা বলেন, টাকা পরিশোধের পরও নুরুজ্জামানের বিভিন্ন অনৈতিক চাওয়া-পাওয়া ছিল। তিনি সেসব বিষয়ে রাজি না হওয়ায় নুরুজ্জামান প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন। পরে পূর্বের ধার সংক্রান্ত তার কাছে থাকা স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, নুরুজ্জামান নিজ হাতে চেকের পাতায় ইচ্ছেমতো টাকার পরিমাণ লিখে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্যবহার করে মামলা করিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে বাঘা পৌরসভায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে নিলুফা ইয়াসমিন ও মামুন হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নেন নুরুজ্জামান। পরে চাকরি দিতে ব্যর্থ হলে ২০২৩ সালে তিনি ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর কৌশলে ওই দুই ব্যক্তিকে তার অফিসে নিয়ে আসা হয়।
লতার অভিযোগ, পরবর্তীতে ‘আশার আলো’ নামের একটি এনজিও থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেওয়ার কথা বলে কৌশলে তার অগ্রণী ব্যাংকের তিনটি স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক ও একটি স্ট্যাম্প নেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, মামুন হোসেন কিংবা নিলুফা ইয়াসমিন কখনোই তাকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা দেননি। অথচ বর্তমানে মামুন হোসেনের নামে ১৫ লাখ টাকার (মামলা নং- ১৬১৩/২৫) এবং নিলুফা ইয়াসমিনের নামে ২০ লাখ টাকার (মামলা নং- ৫২৮/সি) দুটি চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া নুরুজ্জামান নিজেও বাদী হয়ে ২৫ লাখ টাকার আরও একটি মামলা করেছেন বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নিলুফা ইয়াসমিনের দায়ের করা মামলায় গত ১১ মার্চ তাকে ছয় দিন কারাগারেও থাকতে হয়েছে।
ফাতেমা খাতুন লতা বলেন, গত ২৬ বছর ধরে নুরুজ্জামানের পরিবারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি একা ও অসহায় হয়ে পড়েছেন বুঝতে পেরে নুরুজ্জামান ও তার ছেলে স্বদেশ তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র শুরু করেন। বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট ও চায়ের দোকানে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি জানান, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য বাঘা উপজেলার রঞ্জু চেয়ারম্যান, বাঘা প্রেসক্লাবের সভাপতি আঃ লতিফ, সাংবাদিক আমানুল্লাহ আমান ও লালন উদ্দিন একাধিকবার উদ্যোগ নিলেও অতিরিক্ত অর্থ দাবির কারণে তা সফল হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমা খাতুন লতা আরও উল্লেখ করেন, অভিযুক্ত নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাঁদাবাজির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া বাঘা বাজার প্রেসক্লাব এলাকায় এক নারীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয়ভাবে তাকে জুতোপেটার শিকার হতে হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন।
দীর্ঘদিন তৃণমূল পর্যায়ে রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এই সাবেক জনপ্রতিনিধি বলেন, এলাকার মানুষ তার রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত। তিনি নিজেকে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার দাবি করে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।