
জ্যৈষ্ঠের তপ্ত রোদের মাঝেই মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় শুরু হয়েছে মধুমাসের চিরচেনা আম-কাঁঠালের উৎসব।বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের অন্যতম অনুষঙ্গ এই মৌসুমি ফলকে কেন্দ্র করে মেতে উঠেছে পুরো জনপদ।উপজেলার প্রতিটি হাট-বাজার এখন আম,কাঁঠাল ও লিচুর মিষ্টি সুবাসে মুখরিত হয়ে উঠেছে।সরেজমিনে মাওয়া ও চন্দ্রবাড়ীসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায় ফলের দোকানে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়।গ্রামবাংলায় জ্যৈষ্ঠ মাসকে জামাই জ্যৈষ্ঠ হিসেবে গণ্য করায় বাজারে নতুন জামাইদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
শ্বশুরবাড়িতে নাইওর আসা নতুন স্ত্রীকে নিয়ে কিংবা আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার জন্য সাধ্যমতো ফল কিনছেন সবাই।ঐতিহ্যবাহী রীতি মেনে অনেক শ্বশুরকেও দেখা গেছে জামাই বাড়ির উদ্দেশ্যে ফলের ডালা সাজাতে।
যাদের নিজস্ব বাগান আছে,তারা গাছ থেকে ফল পেড়ে আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন প্রতিবেশীদের সাথে।অন্যদিকে বাগানহীন সাধারণ মানুষও মধুমাসের চিরন্তন স্বাদ থেকে বঞ্চিত হতে চান না একটুও।বাজারের বিক্রেতারা জানান,মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় ফলের দাম এখন কিছুটা চড়া।বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি গোপালভোগ ও রূপালি আম ১০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
জনপ্রিয় হিমসাগর ১৪০ টাকা এবং গোবিন্দভোগ আম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে।মিষ্টি ও রসালো লিচুর চাহিদাও বাজারে আকাশচুম্বী যা বিক্রি হচ্ছে প্রতি শত ৩০০ থেকে ৩৮০ টাকায়।দাম একটু বেশি হলেও পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের মুখে হাসি ফোটাতে হাসিমুখেই পকেট খালি করছেন ক্রেতারা।বিক্রেতারা আশা করছেন,আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ফলের আমদানি বাড়লে দাম সাধারণের নাগালের মধ্যে আসবে।সব মিলিয়ে,ঐতিহ্যের আম-কাঁঠাল আর লিচুর স্বাদে লৌহজংয়ের প্রতিটি ঘরে এখন বইছে উৎসবের আমেজ।