
“রাস্তা চাই, শিক্ষা চাই”, “বেঁজগাঁও টু কুকুটিয়া রাস্তার মেরামত চাই অতি শীঘ্রই”—এমন নানা স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় নেমে এসেছে শত শত শিক্ষার্থী। মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার বেঁজগাঁও থেকে কুকুটিয়া হয়ে লৌহজং পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী।
সম্প্রতি রাস্তার বেহাল দশার প্রতিবাদে এবং দ্রুত মেরামতের দাবিতে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে এক বিশাল মানববন্ধনের আয়োজন করে উপজেলার বেশ কয়েকটি নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানববন্ধনে অংশ নেয়:
শ্রীনগর সরকারি কলেজও পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ এর শিক্ষার্থীবৃন্দ।
হোগলাগাঁও আবুল হাশেম উচ্চ বিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীবৃন্দ।
কুকুটিয়া কমলাকান্ত উচ্চ বিদ্যালয় এর শিক্ষার্থীবৃন্দ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দে ভরা এই রাস্তায় প্রতিদিন ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে বর্ষার দিনে এই ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। খানাখন্দে পানি জমে রাস্তাটি যেন এক একটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রীনগর বেঁজগাঁও থেকে লৌহজং পর্যন্ত সড়কটি সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে সরকারিভাবে টেন্ডার (দরপত্র) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে অজ্ঞাত কারণে টেন্ডার হওয়ার দীর্ঘদিন পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করেনি। কাজ আরম্ভ করতে এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে।
চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীর
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, কুকুটিয়া ও বেঁজগাঁও এলাকার হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু রাস্তার এমন করুণ অবস্থার কারণে রিকশা, সিএনজি বা অন্য কোনো যানবাহন সহজে এই রুটে চলতে চায় না। আর চললেও গুণতে হয় দ্বিগুণ ভাড়া। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। সময়মতো ক্লাসে পৌঁছানো তো দূরের কথা, ভাঙা রাস্তায় যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আহত হচ্ছে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা।
এক শিক্ষার্থী বলেন,
> “আমরা শুধু পড়ালেখা করতে চাই না, নিরাপদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে চাই। টেন্ডার হওয়ার পরেও কেন কাজ শুরু হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। অবিলম্বে এই রাস্তার কাজ শুরু না হলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”
এলাকাবাসী ও ছাত্রসমাজের এখন একটাই দাবি—কাগজে-কলমে টেন্ডার আটকে না রেখে অবিলম্বে যেন সরেজমিনে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করা হয়। এই বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।