
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকার ঘোষিত ভিজিএফ (VGF) কর্মসূচির চাল বিতরণ কার্যক্রমে নানা অনিয়ম ও সংকটের অভিযোগ উঠেছে দেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে। বিশেষ করে চাল পরিবহন, লোড-আনলোড ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মেটাতে বাধ্য হয়ে কিছু সংখ্যক কার্ড বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা থাকলেও গোপনে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন জনপ্রতিনিধিরা।
একাধিক চেয়ারম্যানের দাবি, সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত চাল ইউনিয়নে পৌঁছাতে পরিবহন খরচ, কেয়ারিং, শ্রমিক মজুরি ও লোড-আনলোড বাবদ উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। কিন্তু এসব খরচের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ না থাকায় বাস্তবতায় তারা চরম সংকটে পড়ছেন। অভিযোগ রয়েছে, এ ব্যয় মেটাতে অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ৪০০টি কার্ড বাজারে বিক্রি করতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চেয়ারম্যান বলেন, “সরকারি বরাদ্দে চাল আসে ঠিকই, কিন্তু পরিবহন ও বিতরণ খরচ বহনের জন্য আলাদা বাজেট না থাকায় বাস্তবে সমস্যায় পড়তে হয়। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে।”
এদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চালের ওজন ঘাটতি নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিটি ৩০ কেজির বস্তায় ১ থেকে ২ কেজি পর্যন্ত চাল কম পাওয়া যায়। এতে করে উপকারভোগীদের মধ্যে নির্ধারিত ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে।
একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, “বস্তাভিত্তিক ওজন ঘাটতির বিষয়টি বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে এখনো কার্যকর কোনো সমাধান বাস্তবায়ন হয়নি।”
এ অবস্থায় প্রকৃত হতদরিদ্র ও অসহায় পরিবারগুলো তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। অনেকেই নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম চাল পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, ভিজিএফের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সরকারের মানবিক উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তারা দ্রুত পরিবহন ব্যয়ের জন্য আলাদা বরাদ্দ, বস্তার ওজন যাচাই এবং কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।