1. dailyprobatibangladesh@gmail.com : daily probati bangladesh : daily probati bangladesh
  2. live@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
  3. info@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ :
চান্দিনায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষনের অভিযোগ। শালিস বৈঠকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা। - দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দৌলতপুরে দেশনেত্রী ফোরামের উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত পদ্মাসেতু টোল প্লাজায় অভিযান কোটি টাকার অবৈধ বাগদা রেণু জ ব্দ বেনাপোলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর গাড়িবহরে হা ম লা র ঘটনা ঘটেছে। ডুমুরিয়ায় সড়ক দু র্ঘ ট না য় এক জনের মৃ ত্যু। আরো অনেকে আ হ ত। শার্শায় বেনাপোল সীমান্ত পরিদর্শনে এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী আম মৌসুমকে সামনে রেখে সাপাহার সদরে যানজট নিরসনে প্রশাসনের বিশেষ অভিযান ইসলামী ব্যাংক খুরশীদ আলম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবে গ্রাহক ফোরাম। সেনবাগ থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৫ জন পরোয়ানাভূক্ত আ সা মী কে গ্রে ফ তা র করেছে বিএনপি নেতা আসহাব উদ্দিন চৌধুরীর মায়ের দাফন সম্পন্ন চারঘাটে র‍্যাবের মা দ কবিরোধী অভিযান: ৩১৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ আ ট ক এক কারবারি

ভিডিও সংবাদ 👇👇

চান্দিনায় চার বছরের শিশুকে ধর্ষনের অভিযোগ। শালিস বৈঠকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা।

মোঃ আনোয়ার পারভেজ জেলা প্রকিনিধি, কুমিল্লা
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

 

 

চান্দিনা (কুমিল্লা), ১৫ মে ২০২৬ইং
চান্দিনা থানার বরকইট ইউনিয়নের অন্তরগত শ্রীমন্তপুর গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় ( উধাইয়া ব্যপারির) বাড়িতে চার বছরের শিশু হাসিবা তার আপন চাচাতো ভাই মোঃ জনিম উদ্দীনের ছেলে ফাহিম (১৬)-এর দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

১৫ই মে২০২৬ইং রোজ শুক্রবার এই ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের বিষয়টি শিশুর মা জানতে পেরে অভিযুক্ত ফাহিমের মাকে জানালে উভয়ের মধ্যে ঝগড়া বাঁধে। মানসিক কষ্টে শিশু হাসিবার মা আত্মহত্যার চেষ্টা করলে বাড়ির লোকজন তাকে জীবিত উদ্ধার করে।

ঘটনার দুই দিন পর শিশুটির মা,অভিযুক্ত ধর্ষনকারি ফাহিমের মা সহ শ্রীমন্ত পুর গ্রামের বাসিন্দা রিপন শিশুটিকে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সি.ডব্লিউ.বি শারমিন সুলতানার কাছে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়।

ধর্ষনের বিচার চাইতে শিশু হাসিবার মা প্রথম দিকে স্থানীয় মাতাব্বরদের কাছে যান। ১৭ মে ২০২৬ইং রাত আনুমানিক ১০ ঘটিকার সময় হাজী মোঃ শামছুল হকের সভাপতিত্বে শালিস বৈঠক বসে। উপস্থিত মাতাব্বরগন গণমাধ্যম কর্মীদের জানান এটি একটি পারিবারিক শালিস। সাংবাদিকগন যখন বৈঠকে প্রশ্ন করেন আমরা যতটুকু শুনেছি এখানে ধর্ষনের বিচারের বৈঠক হচ্ছে তা সঠিক কিনা? তখন সাংবাদিকদের বৈঠকের পক্ষ থেকে বলা হয় আমরা এখানে ধর্ষনের বিচার করার জন্য বৈঠকে বসেনি আমরা এখানে পারিবারিক মিমাংসা করার জন্য বসেছি। গনমাধ্যম কর্মীরা চলে যাওযার পরবর্তীতে ধর্ষনের প্রকৃত ঘটনাটি ধামা চাপা দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ফাহিমকে শালিসে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, জুতা দিয়ে পেটানো এবং মাথার চুল কেটে দেওয়ার দেওয়া হয়।

এই সময় শালিস বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন মোঃ শাহাজাহান মুন্সী, মোঃ তাজুল ইসলাম মেম্বার, গিয়াস উদ্দিন (ডেকোরেটর), ময়নাল হোসেন মনু মিয়া, জাহাঙ্গীর আলম, কবির হোসেন দুধ কবির, শরিফ উদ্দীন, রিপন মিয়া, গিয়াস উদ্দিন সহ আরো অনেকে।

শালিস বৈঠকে তাজুল ইসলাম মেম্বার শিশু কন্যা হাসিবার মাকে বলেন তোকে আমি আগেই বলেছি আমি এলাকার কয়েক জন লোক নিয়া এইটা শেষ করে দিবো। তুই মিমাংসার স্বার্থে এখানে ছোট্ট কইরা কথা কইচ।
তাজুল ইসলাম মেম্বার এবং রিপন বলেন এই বৈঠকে যদি কেহ ভিডিও করে এবং ফেইসবুকে পোস্ট করে তা হলে তাদেরকে এখানে কঠিন বিচার করা হবে। গিয়াস উদ্দিন ( ডেকোরেটর) বলেন সবার ফোন পকেটে রাখেন কেহ ভিডিও করতে পারবেনা।

বৈঠকে শালিসিগনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় সি ডাব্লিউ বি শারমিন সুলতানা নাকি সিদ্বান্ত দিয়েছেন শিশু কন্যাটি ধর্ষনের সিকার হয় নাই।

এলাকার সাধারণ মানুষের অভিযোগ, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সি.ডাব্লিউ. বি শারমিন সুলতানা ডাক্তার নন, তিনি কি ভাবে ধর্ষন হয়নি বলে সিদ্ধান্ত দিলেন। আইনগত ভাবে তার এ ধরনের পরীক্ষা করার অনুমতি আছে কিনা? স্থানীয়দের ধারণা, অনৈতিক অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সি ডাব্লিউ বি শারমিন সুলতানার সাথে ফোনে ধর্ষনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার কাছে ঘটনার দুই দিন পর শ্রীমন্ত পুর গ্রামের রিপন সহ শিশু কন্যার মা, অভিযুক্ত ফাহিমের মা এবং তাদের বাড়ির আরো কয়েক জন মহিলা ও পুরুষ আমার কাছে মেয়েটিকে নিয়ে এসে বলেন মেয়েটিকে তার চাচা ভাই ফাহিম বিস্কুটের কথা বলে তার ঘরে নিয়ে ধর্ষন করে। আপা আমরা পারিবারিক ভাবে বিষটা সমাধান করবো আপনি একটু দেখে দেন। তখন আমি বলি যেহেতু ধর্ষনের অভিযোগ আপনারা আইন আইনানুগ ভাবে আইনি ব্যবস্থা নেন। আপনারা মেয়েটিকে থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অথবা কুমিল্লা
মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ডাক্তারি পরীক্ষা ও চিকিৎসা করান। কিন্তু তারা বারবার একই কথা বলেন যে তারা বিষয়টি নিয়ে পরিবারের বাহিরে জানাজানি করতে চাচ্ছেনা। তখন আমি মেয়েটিকে ফিজিক্যালি দেখি এবং দেখতে পেলাম মেয়েটির গোপনাংঙ্গ দুই দিন পরেও লালচে হয়ে আছে। সময় বেশি পেলে গোপনাংঙ্গ ছিড়ে রক্তক্ষরন হয়ে মেয়েটি মারাও যেতে পারতো। এবং শিশু বাচ্ছাটির গালে কামড়ের দাগ ছিল। আমি অভিযুক্ত ফাহিমের মাকে মেয়েটির গোপনাংঙ্গ দেখাই এবং বলি দেখেন মেয়েটির গোপনাংঙ্গ কেমন অস্বাভাবিক। অন্যান্য মেয়েদের মত স্বাভাবিক অবস্থায় নাই। তখন ফাহিমের মা বলেন ধর্ষন হয়েছে তো কি হয়েছে। তখন আমি ফাহিমের মাকে বলি কি হয়েছে মানে জেলে যাবেন। আমি মেয়েটির গোপনাংঙ্গে ব্যবহারের জন্য ক্রিম এবং খাওয়ার জন্য ঔষধ দিয়ে কাউন্সিলিং করে বিদায় করে দিয়েছি। এই সময় মেয়েটি মানুষিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় প্রচন্ড কান্না করতে ছিল।
আমার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ধর্ষনের টেষ্টা করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও পরিবেশ নাই। আর আমার দেওয়া সার্টিফিকেটও আইনানুসারে গ্রহন যোগ্য নয়। দরবারে কে কি বল্ল আমার তা জানা নাই।

হাসিবার মায়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন জটিল কিছু হয় নাই। বিস্কুট দেবার কথা বলে ফাহিম তার ঘরে আমার মেয়েকে নিয়ে গিয়ে দরজা বন্দ করে অবস্থান করে। আমি তখন বাড়িতে ছিলাম না। বাড়ি এসে মেয়েকে না পেয়ে ডাকাডাকি করার পর ফাহিমের ঘর থেকে আমার মেয়ে বাহির হয়ে আসে। এই বিষয়েটি আমি ফাহিমের মাকে জানানলে আমার সাথে রিএক্ট করে। আমাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।

অভিযুক্ত ফাহিমের পরিবারে সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাদের কাউকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। ঘর তালাবদ্ব করে ফাহিম তার পরিবারের সদস্যের নিয়ে নানার বাড়ি চলে যায়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্যোসালমিডিয়া ফেইসবুকে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনার ঝড় উঠে।

নেটিজেনরা ফেইসবুক স্ট্যাটাস ও কমেন্টে বলেন যদি ফাহিম প্রকৃত পক্ষে অভিযুক্ত না হয় তা হলে তাকে কেন শালিশ বৈঠকে জুতা পেটা, মাথার চুল কাটা সহ ১০০০০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলো।
ঘটনা যদি সত্যি না হয় তাহলে কেন ফাহিমের নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হলো? সে ক্ষেত্রে হাসিবার মাকে আইনের আওতায় আনা হউক।

দুই একটি স্টেটাস কমেন্টস হলো এই রকম মেয়ের মা যেহেতু বিষটি অস্বীকার করছেনা তখন সাধারন মানুষের এত মাথা ব্যাথা কেন।

এলাকার জন সাধারনের অভিযোগ পরবর্তীতে শালিস বৈঠকের কিছু লোক জনের চাপের মুখে প্রভাবিত হয়ে মেয়ের মা ২৩/৫/২০২৬ইং রোজ শনিবার একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্য আর শালিস বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যের সাথে কোন মিল পাওয়া যায় নাই।

৮নং বরকইট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একই গ্রামের বাসিন্দা জনাব, মোঃ নূরে আলম বলেন, আমি লোক মুখে ঘটনাটি শুনেছি। তবে আমার কাছে বাদী এবং বিবাদী কোন পক্ষই শালিসের জন্য আসেনি। চান্দিনা থানা থেকে একজন দারোগা এবং সাংবাদিকরা এই ধর্ষনের বিষয়ে আমার কাছে জানতে চেয়েছে। সামাজিক ভাবে ধর্ষনের বিচার যারা করেছে তারা আইনের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন। এটা সম্পূন বেআইনি।

ঘটনাটি ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
২২/৫/২০২৬ ইং রাত আনিমানিক ১২ ঘটিকার সময় চান্দিনা থানা পুলিশ ধর্ষিতার বাড়ি পরিদর্শন করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আইনানুগ কোন পদ ক্ষেপ গ্রহন করা হয়নি।
এলাকায় ধর্ষনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সাধারণ মানুষের দাবী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধী সহ যারা এই ধর্ষনের ঘটনাটিতে প্রভাব বিস্তার করে ধামাচাপা দেওয়ার চেস্টা করছেন তাদেরকেও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দেওয়া হউক।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট