
ঢাকার ধামরাইয়ে মাদকের বিরুদ্ধে এক সফল অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা উত্তর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই বিশেষ অভিযানে এলাকার চিহ্নিত দুই মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্য। এদিকে এই গ্রেফতারের পর ধামরাইয়ের স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মাদক, চোরাচালান এবং অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ধামরাইয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছেন। তিনি সমাজ থেকে মাদক সম্পূর্ণ নির্মূল করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলা ও এর আশপাশের এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে ঢাকা জেলা উত্তর ডিবি পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ নজরদারি চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল গোপন সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস আভিযানিক দল ধামরাই উপজেলার একটি সুনির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের সাথে সরাসরি জড়িত থাকার অপরাধে দুই পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। ডিবি পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে ধামরাই ও এর আশেপাশের এলাকায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের মাদক সরবরাহ করে আসছিল। তাদের আটকের ফলে স্থানীয় মাদক নেটওয়ার্কের একটি বড় অংশ ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ধামরাই থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
ধামরাইয়ে দুই মাদক কারবারি গ্রেফতারের পর এই বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ধামরাইয়ের মাননীয় সংসদ সদস্য (এমপি)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ধামরাইয়ের পবিত্র মাটিতে কোনো ধরনের মাদক কারবারি, চোরাচালানি কিংবা যুবসমাজ ধ্বংসকারী অনলাইন জুয়াড়িদের কোনো স্থান হবে না।
সংসদ সদস্য মহোদয় ধামরাইকে একটি আদর্শ ও মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা ধামরাইয়ে মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করছি। অপরাধী যে দলেরই হোক বা যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। ধামরাইয়ের প্রতিটি কোণ থেকে মাদক কারবারি, চোরাচালানি এবং অনলাইন জুয়া সিন্ডিকেটকে খুঁজে বের করে আইনি আওতায় আনা হবে।” তিনি পুলিশ ও প্রশাসনকে এই সমস্ত অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এমপি মহোদয় তাঁর বক্তব্যে সামাজিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, মাদক কেবল একটি পরিবারকে ধ্বংস করে না, বরং পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। তাই শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ওপর নির্ভর না করে, আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হতে হবে।
পরিবারের সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যার যার জায়গা থেকে মাদক সেবনকারী ও মাদক কারবারিদের সামাজিক ও আইনিভাবে নির্মূল করতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই চিরুনি অভিযান ও সামাজিক প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে। সমাজ থেকে মাদকের নাম নিশানা মুছে না ফেলা পর্যন্ত আমরা থামব না।”
দেশের আপামর সাধারণ জনতার প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বলেন, “আমরা সবাই মিলে বুক ফুলিয়ে ‘মাদককে না’ বলব। যদি কোনো এলাকায় মাদক কেনাবেচা বা মাদক সিন্ডিকেটের গডফাদারদের সন্ধান পাওয়া যায়, তবে কেউ দয়া করে আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না। উত্তেজিত হয়ে গণপিটুনি বা আইনবহির্ভূত কোনো কাজ করা যাবে না। যেকোনো অপরাধের তথ্য পাওয়ার সাথে সাথে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করে দিন। সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।” তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা থাকলে ধামরাইসহ পুরো বাংলাদেশকে খুব দ্রুতই মাদক মুক্ত করা সম্ভব।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার ও প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো একটি সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত সুস্থ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ধামরাইয়ের এই সাম্প্রতিক অভিযান এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কঠোর অবস্থান তরুণ প্রজন্মকে মাদকের মরণকামড় থেকে রক্ষা করতে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ। ধামরাইয়ের সাধারণ মানুষ ডিবি পুলিশের এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং অনলাইন জুয়া ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালনার দাবি তুলেছেন। সমাজ ও রাষ্ট্রকে বাঁচাতে হলে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে এই মহৎ লড়াইয়ে শামিল হতে হবে এবং চারপাশকে নিরাপদ রাখতে হবে।