
কবরস্থানের মাঝখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ: উত্তর কলাউজানে উত্তেজনা, প্রতিবাদে মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন।
আরমান হোসেন ফয়সাল
লোহাগাড়ার প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম জেলা
কবরস্থানের মাঝখানে সিমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ: উওর কলাউজনে উত্তেজনা, প্রতিবাদে মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজানে ইউনিয়নের উত্তর কলাউজান এলাকায় শতবর্ষী একটি কবরস্থানের মাঝখানে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দখলের চেষ্টার অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (১০ জুন) সকালে উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খালাদাদ খাঁন জামে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থান এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী শিহাব উদ্দিন, সাইফুল ইসলাম সাঈদ , ইলিয়াছ খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। এতে জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, প্রবাসী, মুসল্লি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শতাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, কলাউজান ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী ইদ্রিস, তার দুই ভাই আবুল বশর ও আনোয়ারসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থানটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের একটি বরাদ্দের অর্থ ব্যবহার করে কবরস্থানের মাঝখানে পাকা সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খালাদাদ খাঁন জামে মসজিদের এই কবরস্থানটি শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এলাকার প্রায় শতাধিক পরিবারের পারিবারিক ও সামাজিক কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু উন্নয়ন ও সংস্কারের নামে এক লাখ টাকার বরাদ্দ এনে কবরস্থানের মাঝখানে প্রাচীর নির্মাণের মাধ্যমে এটিকে একটি নির্দিষ্ট পরিবারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, কবরস্থানের মাঝখানে প্রাচীর নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে দাফন কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হবে এবং সাধারণ মানুষের কবরস্থানে প্রবেশ ও ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, কথিত জমির মালিকানা দাবি করে মৌলভী ইদ্রিস সম্প্রতি একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন, যা বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের দাবি, কবরস্থানটি একটি সার্বজনীন সম্পত্তি এবং এটিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন হিসেবে উপস্থাপন করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।
এছাড়া খালাদাদ খাঁন জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজেও একটি পক্ষ বিভিন্নভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় আইনজীবী শিহাব উদ্দীনের উদ্যোগে শতাধিক গ্রামবাসীর স্বাক্ষরসংবলিত একটি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে সাবেক চেয়ারম্যান মৌলভী ইদ্রিস, তার দুই ভাই আবুল বশর ও আনোয়ারসহ মোট ১০ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।
এদিকে, ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও কবরস্থানের সার্বজনীন চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান না হলে এলাকায় আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।