
কাফরুলে মোটরসাইকেল আরোহীকে ইট দিয়ে হামলার রহস্য উদ্ঘাটন: দুইজন গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর কাফরুলে মোটরসাইকেল আরোহীকে ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করার ঘটনায় ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে কাফরুল থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোঃ পারভেজ (৩০) ও আনোয়ার হোসেন বাবু (৩২)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১০ জুন) রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে কাফরুল থানাধীন পূর্ব শেওড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ডের অদূরে ইব্রাহিমপুর পাকা রাস্তায় ভিকটিম রাফি মোটরসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার পথে হামলার শিকার হন। পূর্ব শত্রুতার জেরে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী তার গতিরোধ করে মাথার ডান পাশে ইট দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মোটরসাইকেলসহ রাস্তায় পড়ে যান।
পরে স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা তাকে অটোরিকশায় করে নিয়ে যায় বলে জানা যায়। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের চাচা নুর হোসেন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি তদন্তে নেমে কাফরুল থানা পুলিশ ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চারজনকে শনাক্ত করে। তারা হলো— মোঃ পারভেজ, মোঃ ফয়সাল ওরফে কালু, আনোয়ার হোসেন বাবু ও আমিন।
পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ময়মনসিংহ জেলার ধোবাউড়া থানার ভারতীয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে মোঃ পারভেজকে এবং ইব্রাহিমপুর এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন বাবুকে গ্রেফতার করা হয়। একই অভিযানে ঘটনাস্থলের নিকট থেকে ভিকটিমের মোটরসাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারভেজ পূর্বে ভিকটিম রাফির বাসায় ভাড়া থাকতেন। ওই সময় থেকেই তাদের মধ্যে পরিচয় গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে এলাকায় মাদক ব্যবসা সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিরোধের জেরে তাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয় এবং পরদিন ভোররাতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এছাড়া ঘটনার পর আসামিরা বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে দাবি করে যে ওপর থেকে ইট পড়ে ভিকটিম আহত হয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পারভেজ ও কালুর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে কাফরুল থানা পুলিশ।