
ফেনী বড়বাজারে ফায়ার ট্রাঙ্ক এখন দুর্ভোগের প্রতীক
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
অসমাপ্ত সড়ক সংস্কার ও ড্রেনেজ সংকটে তিন মাস ধরে জলাবদ্ধতা; ব্যবসায়ীদের দ্রুত সমাধানের দাবি
অগ্নিকাণ্ডের সময় দ্রুত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ফেনী বড়বাজার এলাকায় নির্মিত ফায়ার ট্রাঙ্ক এখন স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় তিন মাস আগে ট্রাঙ্ক নির্মাণকাজ শেষ হলেও সংশ্লিষ্ট সড়ক ও ড্রেনেজ অবকাঠামোর কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় বাজারজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা ও যাতায়াত সংকট।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফায়ার সার্ভিসের উদ্যোগে নির্মিত পানির ট্রাঙ্ক স্থাপনের পর সড়কের কার্পেটিং কাজ আর সম্পন্ন করা হয়নি। একই সঙ্গে পূর্বের ড্রেনেজ ব্যবস্থাও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই বাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে পানি জমে দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি ক্রেতাদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, ট্রাঙ্কটির উচ্চতা প্রায় ৮ ইঞ্চি হওয়ায় বাজারের ভেতরে রিকশা, সাইকেল, মোটরসাইকেল ও মালবাহী যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এমনকি পৌরসভার ময়লা পরিবহনকারী ট্রাক্টরও চলাচলে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। প্রতিদিন পণ্য আনা-নেওয়া ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
স্থানীয়দের দাবি, সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর ড্রেন দখল। তারা ড্রেনের ওপর ও আশপাশে মালামাল রেখে পানি প্রবাহের পথ সংকুচিত করে ফেলেছেন। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে না পেরে বাজারের বিভিন্ন অংশে জমে থাকছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা বলেন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার উন্নয়ন অবশ্যই সময়োপযোগী উদ্যোগ। তবে পরিকল্পনার ঘাটতি ও অসমাপ্ত কাজের কারণে সেই উদ্যোগই এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা দ্রুত সড়ক সংস্কার, কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।
ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে জলাবদ্ধতা আরও প্রকট আকার ধারণ করবে এবং বাজার এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ অবস্থায় তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পৌরসভা ও ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।