
বেদে পল্লীতে এসি ও সিসি ক্যামেরা লাগিয়ে ববিতার মাদক ব্যবসার অজানা কাহিনী
মোঃ আবদুল মোতালেব
স্টাফ রিপোর্টার নোয়াখালী:–
নোয়াখালীর সেই মাদক সম্রাজ্ঞি ববিতা আক্তার সুমাইয়ার অজানা কাহিনী শুনে হতবাক এলাকাবাসী। বস্তির ঝুপড়ি ঘরে এসসি লাগিয়ে ও সড়কে সিসি ক্যামরা ফিট করে মাদক ব্যবসার আস্তানায় অবশেষ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। সোমবার (১৫ জুন) সকালে চাটখিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ বিষিয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর রোববার বিকালে তার আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় ঝুপড়ি ঘর থেকে এসি, ইয়াবা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও সিসি ক্যামরাসহ সুমাইয়ার দুই আত্মীয়কে আটক করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে আগেই আস্তানা থেকে সটকে পড়ে ববিতা। নোয়াখালীর চাটখিল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভীমপুর গ্রামের বেদে পল্লীতে সরকারি খাস জায়গায় গড়ে তোলা ঝুপড়ি ঘরে আস্তানা গড়ে এভাবে মাদক ব্যবসা বিরল ঘটনা।
শুধু তাই নয়, এই বস্তি ঘরেই রাজকীয় জীবনযাপন করছে সুমাইয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা। সেখানে স্থাপন করা হয়েছে বিলাসবহুল এয়ারকন্ডিশনার (এসি) ও পুরো আস্তানাজুড়ে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই আস্তানার মূল হোতা সুমাইয়া স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, একসময় আওয়ামী লীগের নেতাদের সহযোগিতায় ব্যবসা শুরু করলেও বর্তমানে বিএনপির কিছু নেতার আশ্রয়ে তিনি সেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে চাটখিল থানা পুলিশ কয়েক দফায় তাকে ইয়াবাসহ আটক করে আদালতে পাঠালেও জামিনে বের হয়ে পুনরায় একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।
অভিযোগ অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্রেতাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য আস্তানার চারপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। প্রযুক্তির এই অপব্যবহারের মাধ্যমে বেদে পল্লী থেকে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হওয়ায় চাটখিলের ছাত্র ও যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তারা এই মাদক সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন।
সুমাইয়ার বিরুদ্ধে থানায় সাতটি মাদক মামলা রয়েছে। এ পর্যন্ত ছয়বার তিনি পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। তবে প্রতিবারই জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন। তাকে আটক করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয়রা হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ বিষয়ে চাটখিল থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ বলেন, সুমাইয়ার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। সে কয়েকবার গ্রেফতারও হয়েছে। তবে তার এমন বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। অভিযানের খবর পেয়ে আগেই সে আস্তানা থেকে পালিয়েছে, তার দুই আত্মীয়কে আমরা হেফাজতে নিয়েছি। তাকে গ্রেফতারে আমাদের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।