
*আলীকদমে বিদ্যুতের সংকট: জনগণের ন্যায্য প্রশ্নের উত্তর কবে*
আলীকদমের মানুষ আজ এমন এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা শুধু একটি সাময়িক বিদ্যুৎ সমস্যার বিষয় নয়; এটি জনদুর্ভোগ, প্রশাসনিক জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ, ঘনঘন লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
অথচ এ সংকটের প্রকৃত কারণ কী, এটি কবে নাগাদ সমাধান হবে এবং কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে জনগণ এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাচ্ছে না।
আলীকদমের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংকট থাকলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, সদর ইউনিয়নের পানবাজার এলাকায় তুলনামূলকভাবে আরও কম সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
যদি বাস্তবেই এমন বৈষম্য থেকে থাকে, তবে তার প্রযুক্তিগত বা প্রশাসনিক কারণ জনগণের সামনে তুলে ধরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কারণ রাষ্ট্রের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সকল নাগরিক সমান মর্যাদা ও সমান সুযোগ পাওয়ার অধিকার রাখেন।
এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। প্রচণ্ড গরমে বয়স্ক মা-বাবা, অসুস্থ ব্যক্তি এবং শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা রাতের বেলায় ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, অনলাইন কার্যক্রম এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আধুনিক জীবনের মৌলিক সুবিধাগুলোর একটি হলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ; কিন্তু আলীকদমের মানুষ আজ সেই মৌলিক সেবা থেকেও বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ করছেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে, প্রজাতন্ত্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ। সরকারি কর্মকর্তা, প্রকৌশলী কিংবা প্রশাসনের অন্য যেকোনো প্রতিনিধি জনগণের করের অর্থে পরিচালিত রাষ্ট্রযন্ত্রের অংশ।
ফলে জনগণের কাছে তথ্য প্রদান, সমস্যার ব্যাখ্যা দেওয়া এবং সেবার মান সম্পর্কে জবাবদিহি করা কোনো দয়া নয়; এটি তাদের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব।
জনগণ আজ জানতে চায়—
বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটের প্রকৃত কারণ কী? এটি কি কারিগরি ত্রুটি, নাকি পরিকল্পিত লোডশেডিং?
কবে নাগাদ স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে?
পানবাজার এলাকায় তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ সরবরাহের অভিযোগের সত্যতা কী?
সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রশাসনের বাধ্যবাধকতা। নীরবতা কখনো সমস্যার সমাধান নয়; বরং তা জনমনে অনিশ্চয়তা ও আস্থাহীনতা সৃষ্টি করে।
আলীকদমবাসী কোনো বিশেষ সুবিধা চাইছে না, তারা শুধু তাদের ন্যায্য অধিকার—স্বচ্ছ তথ্য, সমান সেবা এবং দায়িত্বশীল জবাবদিহিতা—চাইছে।
আজ সময় এসেছে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ, প্রকৌশলী এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট ও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়ার।
কারণ জনগণের ন্যায্য প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
আলীকদমবাসীর প্রশ্ন একটাই— “বিদ্যুতের এই দুরবস্থা আর কতদিন চলবে, এবং জনগণের কাছে এর জবাব কে দেবে?”