
ফেসবুকে প্রেম, বিয়ের দাবিতে প্রবাসীর বাড়িতে তরুণীর অনশনসদৃশ অবস্থান; তালা ঝুলিয়ে উধাও প্রেমিক পরিবার
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
তারিখ- ১-৬-২০২৬ইং সোনাগাজী ফেনী।
সোনাগাজীতে চাঞ্চল্যকর ঘটনা—ওমান প্রবাসীর বাড়ির সামনে ৩ দিন ধরে অবস্থান নীলফামারির তরুণীর; বিয়ে না হলে ফিরবেন না দাবি, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামে ফেসবুকে গড়ে ওঠা প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য। বিয়ের দাবিতে নীলফামারির এক তরুণী ওমান প্রবাসী এক যুবকের বাড়ির সামনে টানা অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় এলাকায় উৎসুক জনতার ভিড় জমেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা চলছে।
জানা যায়, ভাদাদিয়া গ্রামের সাহাব উদ্দিনের ছেলে আরিফ হোসেন প্রায় তিন বছর আগে জীবিকার তাগিদে ওমানে পাড়ি জমান। প্রায় এক বছর আগে ফেসবুক মেসেঞ্জারে নীলফামারির সৈয়দপুরের বাসিন্দা মোসাম্মৎ ফেরদৌসী আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি তরুণীর।
সম্প্রতি দুই মাসের ছুটিতে দেশে আসেন আরিফ। তরুণীর দাবি, বিয়ের আশ্বাসে তিনি ফেনীতে এসে আরিফের সঙ্গে দেখা করেন। তবে সরাসরি দেখার পর থেকেই আরিফ তাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে বন্ধুর কাছ থেকে আরিফের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে গত ১৬ জুন রাতে সোনাগাজীর ওই বাড়িতে এসে ওঠেন ফেরদৌসী।
তরুণীর অভিযোগ, তিনি বাড়িতে পৌঁছানোর পর আরিফ ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘরে তালা ঝুলিয়ে অন্যত্র চলে যান। এরপর থেকে তিনি বাড়ির সামনে অবস্থান করছেন এবং বিয়ে ছাড়া সেখান থেকে সরে যাবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, আরিফের পরিবার তরুণীকে ‘হানিট্র্যাপ চক্রের সদস্য’, ‘প্রতারক’ ও ‘দুশ্চরিত্রা’ আখ্যা দিয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। আরিফের মা নারগিস আক্তার দাবি করেন, তাদের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র এবং ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমার ছেলে ভুল করে থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক, কিন্তু এভাবে বাড়ি দখল করে রাখা গ্রহণযোগ্য নয়।”
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। তবে তরুণী বিয়ে ছাড়া সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানান। সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে পুলিশ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে।
এদিকে, ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রেম, প্রতারণা নাকি ভুল বোঝাবুঝি—তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের সত্যতা ও অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।