
দিলীপ কুমার দাশ, স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ
২২ জুন (রোজ সোমবার)
সনাতন সমাজের নিরাপত্তা, দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ়করণ, সনাতন সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আজ সচিবালয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ-এর নেতৃবৃন্দ।
পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর এবং সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা-এর নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশগ্রহণ করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি পলাশবাড়ী-তে হরিদাস চন্দ্র কর্তৃক রামমন্দির নির্মাণের বিষয় এবং অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী-এর সাম্প্রতিক বক্তব্য সম্পর্কেও প্রতিনিধিদল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দেশ। সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
বৈঠকে আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সকল পূজামণ্ডপ ও মন্দিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি এবং উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এছাড়া অর্পিত সম্পত্তি আইনসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ও সমস্যার বিষয়গুলো প্রতিনিধিদল সরকারের কাছে তুলে ধরে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং সনাতন সম্প্রদায়ের ন্যায্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের আন্তরিকতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠক শেষে উভয় পক্ষই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সনাতন সমাজের প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সহযোগিতা ও সদিচ্ছার মাধ্যমে দেশের সকল ধর্মাবলম্বী মানুষ নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে সক্ষম হবেন।