
আব্দুল ওয়াহাব, স্টাফ রিপোর্টার
সারা বাংলাদেশে ৩৭ হাজার দপ্তরী কাম প্রহরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাজ করে আসছে। তাদের দিন রাত ডিউটি করতে হচ্ছে। তাদের নেই কোন নৈমিত্তিক ছুটি, তারা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের আন্ডারে চাকরি করে। ১২ই ফেব্রয়ারি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ভোটের ডিউটি করে সন্মানী পাচ্ছেন ৪-৫ হাজার টাকা, আর একজন দপ্তরি ভোটের আগের দিন বিদ্যালয় পরিস্কার করে দেয়, ভোটের দিন তারা সহযোগিতা করে এবং পরের দিন আবার বিদ্যালয় পরিস্কার করতে হয়। তাদের নেই কোন সন্মানি ভাতা, এটা কি বৈষম্য নয়।তাদের কি কোন আশা নেই যে আমরাও কিছু টাকা সন্মানী পাবো।আজও সেই ১৪৪৫০/১৬,১৩০ টাকার চাকরি , একজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম প্রহরী।কাগজে-কলমে সরকারি স্কুল,
কিন্তু তাদের জীবনটা সরকারি নয়। বেতনের খাতা খুললেই ভয় লাগে ১৪৪৫০/১৬,১৩০ টাকা দিয়ে শুরু হয় মাস,শেষ হয় ঋণ দিয়ে।একটি ছয় সদস্যের পরিবার— মা-বাবা, স্ত্রী সন্তান ও ভাই-বোন সবাই নির্ভর করে এই টাকার উপর।পড়াশোনার খরচ, ওষুধের খরচ, চাল-ডাল-তেল, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ, পানি সব মিলিয়ে মাসের মাঝা মাঝিতেই পকেট শূন্য।মাথা ঋনের বোঝায় ভরে যায়, লোকজন বলে“তুমি তো সরকারি চাকরি করো!”একজন দপ্তরি হাসেন। এই হাসির ভেতরে কত অপমান,কত কান্নাকেউ জানে না।সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা তাদের চাকরিটা আউটসোর্সিংয়ের অস্থায়ী চাকরি।একজন দপ্তরি মারা গেলে স্ত্রী সন্তানদের নাই কোন ভবিষ্যৎ। একজন দপ্তরি ১০–১২ বছর কাজ করেছেন,কিন্তু বেতন বাড়েনি, চাকরি স্থায়ী হয়নি, ভবিষ্যতের কোনো নিশ্চয়তা নেই ঈদ আসে, পূজা আসে সবাই বোনাস পায় একজন দপ্তরি পায় শুধু দীর্ঘশ্বাস। কিন্তু বুকের ভেতর জমে থাকাএই কান্না,অবশেষে উপায় না পেয়ে করতে হয় আত্মাহত্যা।