
মাদারীপুরে ২৫ প্রার্থীর মধ্যে ১৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত।
উজ্জ্বল চন্দ্র মন্ডল
মাদারীপুর প্রতিনিধি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ এ মাদারীপুর জেলার ৩টি আসনে মোট ২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন।
২৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৭ জন প্রার্থীই কম ভোট পাওয়ায় তাদের জামানত হারিয়েছেন।
জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে
মাদারীপুর-১ আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জন। মাদারীপুর-২ আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জন। মাদারীপুর-৩ আসনে ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনই তাদের জামানত হারিয়েছেন।
মাদারীপুর-১ আসনে মোট ১০২ টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটারসহ মোট ভোটার সংখ্যা ছিলো ৩ লাখ ২৪ হাজার ২ শত ৮৯ জন। এর মধ্যে নির্বাচনে ভোট দিয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৭ শত ১০ জন। বিভিন্ন কারনে বাতিল ভোটের সংখ্যা ৩ হাজার ৭ শ ১৯ টি। এই আসনে ভোটের হার ৫৬.৩৪%।
মাদারীপুর-১ আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ১০ জন। এদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকসা প্রতীকের প্রার্থী সাইদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা ৬৪ হাজার ৯ শত ৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী নাদিরা আক্তার ৬৪ হাজার ৫ শত ২৮ ভোট পেয়ে ২য় অবস্থানে আছেন। বিএনপি’র বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র জাহাজ) প্রার্থী কামাল জামান মোল্লা ৩৬ হাজার ৫ শত ৬৪ ভোট পেয়ে ৩য় অবস্থানে আছেন। বাকী ৭ জন প্রার্থীই কম ভোট পেয়ে তাদের জামানত হারিয়েছেন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাতা) এর আকরাম হোসাইন ৬ হাজার ২ শত ৫ ভোট, বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির (কাস্তে) আবদুল আলী ২০৮ ভোট, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম মিন্টু ১৮০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী (হরিণ) মোঃ ইমরান হাসান ২৪৭ ভোট, বাংলাদেশ লেবার পার্টি (আনারস) মোঃ হাফিজুর রহমান ৬৯ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের (ট্রাক) রাজিব মোল্লা ৩ হাজার ২৬ ভোট, বিএনপি বিদ্রোহী স্বতন্ত্র (ফুটবল) সাজ্জাত হোসেন সিদ্দিকী ৩ হাজার ৫৯ ভোট পেয়েছেন।
মাদারীপুর-২ আসনে মোট ১৪৫ টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটারসহ মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২ শত ৩২ জন। নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৯২ হাজার ১ শত ৬৪ জন। বাতিল ভোট সংখ্যা ৬ হাজার ৪ শত ৯৪ টি। এ আসনে ভোটের হার শতকরা ৪৪.০৫%। এই আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ১০ জন। এদের মধ্যে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ৬১ হাজার ৭ শত ৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী স্বতন্ত্র (কলস) মিল্টন বৈদ্য ৪৬ হাজার ৪ শত ৭৬ ভোট পেয়ে ২য় অবস্থানে ছিলেন।
এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকসা) প্রার্থী আব্দুস সোবাহান ৩৬ হাজার ১ শত ৬৯ ভোট পেয়ে ৩য় অবস্থানে ছিলেন। বাকী ৭ প্রার্থীর সবাই জামানত হারিয়েছেন। জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাতা) আলী আহমাদ চৌধুরী ১৬ হাজার ৮ শত ৬৫ ভোট, স্বতন্ত্র (হরিণ) মুহাঃ কামরুল ইসলাম সাঈদ ১৪ হাজার ৫ শত ১৯ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (কাঁচি) মোহাম্মদ দিদার হোসেন ১২৮ ভোট, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) মোঃ মহিদুল ইসলাম ৬৪৬ ভোট, স্বতন্ত্র (ঘোড়া) মোঃ রেয়াজুল ইসলাম ২ হাজার ৭ শত ৭৯ ভোট, স্বতন্ত্র (মটর সাইকেল) শহিদুল ইসলাম খাঁন ৬ হাজার ৪৩ ভোট, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাত ঘরি) সুবল চন্দ্র মজুমদার ৩০১ ভোট।
মাদারীপুর-৩ আসনে ১৩৪ টি কেন্দ্রে পোস্টাল ভোটারসহ মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৮ শত ৬ জন। নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ১ হাজার ২ শত ৩৭ জন। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৪ হাজার ৪ শত ৭৫ টি। এ আসনে ভোটের হার শতকরা ৫১.৮৯%। এই আসনে প্রার্থী ছিল ৫ জন। এদের মধ্যে বিএনপি’র (ধানের শীষ) প্রার্থী আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার ৯৬ হাজার ১ শত ৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (দাঁড়িপাল্লা) প্রার্থী মোঃ রফিকুল ইসলাম ৮৪ হাজার ৬ শত ৪৬ ভোট পেয়ে ২য় অবস্থানে ছিলেন। এ আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মই) আমিনুল ইসলাম ৩৬৩ ভোট, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) নিতাই চক্রবর্তী ২ হাজার ৫ শত ৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) মোঃ আজিজুল হক ১৩ হাজার ৫৮ ভোট।
জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার বিষয়ে প্রার্থীদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান আরো উল্লেখযোগ্য হারে ভোট পাওয়ার আশাবাদী ছিলেন কিন্তু কি কারনে এত কম ভোট পেয়েছে সেটা তাদের জানা নাই।
নির্বাচন পরবর্তী জেলার সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কোন ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হয় নাই।