
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
দীর্ঘ বিরতির পর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিবার্ষিক (২০২৬–২০২৮) নির্বাচন। প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় পর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে রাজশাহীর ব্যবসায়ী সমাজে দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। এই নির্বাচনে পরিচালক পদে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন সম্মিলিত ব্যবসায়ী কল্যাণ পরিষদ, রাজশাহী মনোনীত ‘ক’ প্যানেলের প্রার্থী ইমাম মেহেদী।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ছিল ভোটারদের ভিড়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দিনভর ব্যবসায়ীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দীর্ঘদিন পর এমন একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন হওয়ায় অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ভোটগ্রহণ শেষে গণনা সম্পন্ন করে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বোয়ালিয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আরিফ হোসেন। ফলাফলে দেখা যায়, ‘মোড়া’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ইমাম মেহেদী ১০৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। নির্বাচনে মোট প্রায় ২৯০০ ভোটার অংশ নেন, যা ব্যবসায়ী সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণেরই প্রতিফলন।
এবারের নির্বাচনে সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং পরিচালক—এই চারটি পদের বিপরীতে মোট ৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতিযোগিতা ছিল বেশ তীব্র, তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের আস্থা অর্জন করে এগিয়ে থাকেন ইমাম মেহেদী।
ফলাফল ঘোষণার পরপরই তার সমর্থক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে শুভেচ্ছা বিনিময়, মিষ্টি বিতরণ এবং আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেকেই এই নির্বাচনকে নতুন সূচনার প্রতীক হিসেবে দেখছেন।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ইমাম মেহেদী বলেন, “এই জয় ব্যক্তিগত নয়, এটি রাজশাহীর ব্যবসায়ী সমাজের সম্মিলিত আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। আমি সবার সহযোগিতা নিয়ে দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ।”
তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জানান, চেম্বারকে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা তার অগ্রাধিকার। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা এবং ব্যাংকিং খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলেন।
নির্বাচনকে ঘিরে যে ব্যাপক অংশগ্রহণ ও ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা রাজশাহীর ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা, ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজীকরণ এবং একটি সুসংগঠিত বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন রাজশাহীর ব্যবসায়ী সমাজে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফিরবে এবং চেম্বার কার্যক্রম আরও আধুনিক ও গতিশীল হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।