
হাম রোগে আক্রান্ত শিশুদের পাশে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (অবঃ) ডা: পু চ নু
মানুষ’ মানুষের জন্য<>মানুষের তরে<>মানবতার তরে!
মুহাম্মদ সালাহ্ উদ্দীন, আলীকদম (বান্দরবান) স্টাফ রিপোর্টার :
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন হাম আক্রান্ত শিশুদের দেখতে শুক্রবার (৮ মে) বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে পরিদর্শনে আসেন বান্দরবানের উজানি পাড়ার কৃতি সন্তান, সাবেক সিভিল সার্জন, কক্সবাজার এবং অবসরপ্রাপ্ত বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (চট্টগ্রাম) ডা. পু চ নু।
অবসরপ্রাপ্ত এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তার স্ত্রী অধ্যাপক ডা. মায়েঁনুকে সঙ্গে নিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে হাসপাতালে উপস্থিত হন এবং হাম পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
এসময় তিনি আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিভিন্ন ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী, ফলমূল ও পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী নিয়ে আসেন।
পরিদর্শনের সময় ডা. পু চ নু আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার আলোকে শিশু ওয়ার্ডসহ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং হাম আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
শুধু পরিদর্শনেই সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি নিজেই ওয়ার্ডভিত্তিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন এবং রোগীদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।
তিনি কর্তব্যরত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়, শিশুদের পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
বিশেষ করে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এসময় আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সফিকুল আলমসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তার ভিজিটে সহযোগিতা করেন।
সূত্র জানায়, তিনি বিকেল থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করে রোগীদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।
পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে সৌজন্য আপ্যায়ন করা হয়।
জানা গেছে, তিনি আজ রাতে আলীকদম উপজেলায় অবস্থান করবেন এবং আগামীকাল দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল কুরুকপাতা ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা পরিদর্শনে যাবেন।
এসময় তার স্ত্রী অধ্যাপক (অবঃ) ডা. মায়েঁনুও সঙ্গে থাকবেন বলে জানা গেছে।
মানবিক সেবা ও মানবতার কল্যাণে ডা. পু চ নু’র এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
ব্যক্তিগতভাবে দুর্গম অঞ্চলে এসে অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানো, চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়াকে অনেকে “মানবতার ফেরিওয়ালা” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মানুষের তরে, মানবতার তরে তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সমাজে মানবিক দায়িত্ববোধের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।