
২২ বছর পর ভোটযুদ্ধে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতি — উৎসবমুখর নির্বাচনে সরগরম পুরো শহর
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
“মাছ না ছাতা?” — ব্যবসায়ীদের ভোটে আজ নির্ধারিত হচ্ছে ফেনীর নতুন নেতৃত্ব
দীর্ঘ ২২ বছর পর অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির বহুল প্রতীক্ষিত
নির্বাচন।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলছে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দুই যুগ পর নির্বাচনের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস, উত্তেজনা আর উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ফেনী শহর।
সমিতির সূত্র জানায়, শহরের একটি বিদ্যালয়ের ১০টি কক্ষে মোট ১ হাজার ৮০০ ব্যবসায়ী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রে ছিল ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ লাইন, উৎসুক ভিড় আর প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের সরব উপস্থিতি।
নির্বাচন ঘিরে শহরের ব্যবসায়ী মহলে তৈরি হয়েছে তুমুল আলোচনা। “মাছ” ও “ছাতা” প্রতীকের দুই শক্তিশালী প্যানেলের মধ্যে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। নির্বাচনে মোট ২৭টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দুই প্যানেলের প্রার্থীরা।
একদিকে রয়েছেন সমিতির সাবেক দুই সভাপতি জিয়াউদ্দিন আহমেদ মিস্টার ও ফারুক হারুনের নেতৃত্বাধীন “মাছ” প্রতীকের প্যানেল। অন্যদিকে নাসির উদ্দিন মিলন ও মুশফিকুর রহমান কিসলুর নেতৃত্বে “ছাতা” প্রতীকের প্যানেলও ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছে।
ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে মাঠে রয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার শামীমা আক্তার ও মোহাম্মদ শাহরিয়ার সজল। প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে আছেন ফেনী সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ডা. জহির উদ্দিন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেনী মডেল থানার ওসি গাজী ফৌজুল আজিমের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কেন্দ্রজুড়ে ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আলাউদ্দিন আলাল জানান,
“সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি অত্যন্ত সন্তোষজনক।”
জানা যায়, সর্বশেষ ২০০৪ সালে ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে কোনো নির্বাচন না হওয়ায় এবারের ভোটকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও আবেগ। অনেকেই বলছেন, “এ নির্বাচন শুধু নেতৃত্ব বাছাই নয়, এটি ব্যবসায়ী সমাজের নতুন ইতিহাস রচনার দিন।”
পুরো ফেনী শহরজুড়ে এখন একটাই আলোচনা—
“শেষ হাসি হাসবে কে? মাছ নাকি ছাতা?”