
গভীর শোকের ছায়াঃ-বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ইন্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর নেই।
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ- মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ঢাকা জেলা প্রতিনিধি।
বাংলাদেশের রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও উন্নয়ন অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র নাম,বীর মুক্তিযুদ্ধা ও সাবেক মন্ত্রী ইন্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন আর আমাদের মাঝে নেই।
গত বুধবার (১৩ মে ২০২৬) সকাল প্রায় ১০টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর Square Hospital- এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না-লিল্লাহ ওয়া ইন্না লিল্লাহি রাজিউন) । মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভূগেছিলেন।
ইন্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের এক অভিজ্ঞ, প্রজ্ঞাবান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি চট্টগ্রাম-১ ( মিরসরাই) আসন থেকে একাধিকবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক নগরায়ন ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের একজন সাহসী সংগঠন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি দেশপ্রেম, সততা ও নেতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ পথচলায় তিনি সাধারণ মানুষের আস্হা ও ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন তাঁর কর্ম, প্রজ্ঞা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে। উন্নয়নমুখী চিন্তাধারা ও দূরদর্শী নেতৃত্ব তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে একটি স্বতন্ত্র অবস্হানে নিয়ে যায়।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। বিশেষ করে যমুনা লাইফ ইনস্যুরেন্সের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর ভূমিকা সংশ্লিষ্ট মহলে অত্যন্ত সম্নান ও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি মানুষের আস্হা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ইন্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশে হারালো একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন এবং জনমানুষের একজন নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে।তাঁর কর্মময় জীবন, দেশপ্রেম, সততা ও নেতৃত্ব আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আমরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, আত্নীয়-স্বজন,সহকর্মী ও গুণগ্রাহীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি। মহান আল্লাহ পাক যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন। আমিন।