1. dailyprobatibangladesh@gmail.com : daily probati bangladesh : daily probati bangladesh
  2. live@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
  3. info@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ :
পদ্মায় মিলল কাপাসিয়ার ৫ খুনের খলনায়ক ফোরকানের লাশ সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল উদ্ধারের পর রহস্যের অবসান - দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:০১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালমনিরহাটে তিস্তার বালু তোলার গর্তে ডুবে দুই সহোদর ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া পদ্মায় মিলল কাপাসিয়ার ৫ খুনের খলনায়ক ফোরকানের লাশ সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল উদ্ধারের পর রহস্যের অবসান দুর্গাপুরে নিখোঁজ চার বছরের শিশু হুমায়রার ম/র/দে/হ উ/দ্ধা/র, এলাকায় শোকের ছায়া গাজীপুরে বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান মাদক অস্ত্র ও অপহরণ মামলার ৫ আসামি গ্রেপ্তার বিসমিল্লাহ রাহমানির রাহিম অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা স্বীকার জানাচ্ছি। হুইপ নুরুদ্দিন অপুর টিস্যুবক্স নিক্ষেপ নিয়ে অপপ্রচার শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের নিন্দা নবীনগরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পরিবার সীমান্তে ৩৫ বিজিবির বড় সাফল্য বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, কসমেটিকস ও জিরা জব্দ বগুড়ায় র‌্যাবের ঝটিকা অভিযান ৩০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি মতিন আটক শরীয়তপুরে গা শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ড প্রবাসী স্বামীকে খুন করে লাশ টুকরো করে ফ্রিজে রাখলেন স্ত্রী

ভিডিও সংবাদ 👇👇

পদ্মায় মিলল কাপাসিয়ার ৫ খুনের খলনায়ক ফোরকানের লাশ সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল উদ্ধারের পর রহস্যের অবসান

আবু বকর সিদ্দিক, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে
মুন্সীগঞ্জের মাওয়া এলাকায় পদ্মা নদী থেকে পাঁচ খুনের আসামি ফোরকান মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করছে পুলিশ। ছবি: প্রভাতী বাংলাদেশ।

আবু বকর সিদ্দিক, মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জ: গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্ত্রী, শ্যালক ও তিন নিষ্পাপ সন্তানসহ একই পরিবারের পাঁচজনকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনার মূল হোতা ও প্রধান আসামি ফোরকান মোল্লার (৪০) রক্তাক্ত অধ্যায়ের অবসান ঘটেছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) দুপুরে মাওয়া ঘাট ও পদ্মা সেতু থেকে আনুমানিক চার কিলোমিটার ভাটিতে নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় জেলেরা পুলিশে খবর দেয়। পরে মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ডাঙায় নিয়ে আসে।

এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ ও ফোরকানের স্বজনরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহটি কাপাসিয়ার পাঁচ খুনের পলাতক আসামি ফোরকান মোল্লার বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ ও তার পরিবার। মাওয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো: ইলিয়াস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহটি প্রাথমিকভাবে ফোরকানের ভাই আব্দুল জব্বার এবং গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জুবায়ের রহমান ফোরকান মোল্লার বলে শনাক্ত করেছেন।

চাঞ্চল্যকর এই পাঁচ খুনের ঘটনার পর থেকেই ফোরকানকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল পুলিশ, র‍্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। এর আগে গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো: শরিফ উদ্দীন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ফোরকান মোল্লা গ্রেপ্তার এড়াতে পদ্মা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে তারা জোরালো সন্দেহ করছিলেন। পুলিশের এই সন্দেহের পেছনে ছিল পদ্মা সেতুর সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ এবং একটি মোবাইল ফোন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ঘটনার পর থেকে ফোরকানের অবস্থান শনাক্ত করতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ট্র্যাকিং শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে মেহেরপুর এলাকায় এক বাস হেলপারের কাছে ফোরকানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটির সন্ধান মেলে। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে সেই হেলপারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, তিনি মোবাইল ফোনটি মেহেরপুর নয়, বরং পদ্মা সেতুর ওপর থেকে কুড়িয়ে পেয়েছিলেন।

এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সেতুর সিসিটিভি ফুটেজ গভীরভাবে বিশ্লেষণ করে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার পদ্মা সেতুর ওপর এসে থামে। গাড়ি থেকে এক ব্যক্তি নেমে তার মোবাইল ফোনটি সেতুর রেলিংয়ের ওপর রেখে সটান নিচের প্রমত্তা পদ্মা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সদস্য এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলার বাদী সিসিটিভি ফুটেজের ওই ব্যক্তিকে দেখে তিনি ফোরকান মোল্লাই ছিলেন বলে ধারণা ব্যক্ত করেন। তবে পুলিশ তখন জানিয়েছিল, লাশের ডিএনএ (DNA) পরীক্ষা সম্পন্ন করার আগে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া আইনগতভাবে সম্ভব নয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর অত্যন্ত চতুরতার সাথে আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল ফোরকান। সে ঢাকার পল্টন এলাকার একটি নামী ‘রেন্ট-এ-কার’ (গাড়ি ভাড়া দেওয়ার প্রতিষ্ঠান) থেকে চালকসহ একটি প্রাইভেটকার ভাড়া করে। চালককে সে জানিয়েছিল, দক্ষিণ বঙ্গে তার এক অতি আপন আত্মীয়ের আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে তাকে জরুরি ভিত্তিতে যেতে হচ্ছে। তবে চালকের সাথে ফোরকানের খুব অল্প সময় দেখা হওয়ায় এবং রাতের অন্ধকার থাকায় চালক তাকে প্রথম দেখায় নিশ্চিতভাবে পুরোপুরি শনাক্ত করতে পারেননি। তবে গাড়িটি যে পদ্মা সেতু পর্যন্ত গিয়েছিল, তার প্রমাণ পায় পুলিশ।

পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের দাবি, কাপাসিয়ার এই লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো তৃতীয় পক্ষের বা বাইরের কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পারিবারিক কলহ ও মানসিক বিকৃতির জেরে ফোরকান একাই এই জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, গত ৮ মে (২০২৬) দিবাগত গভীর রাতে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত রাউতকোনা গ্রামে এই মর্মান্তিক ও শিউরে ওঠার মতো হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। ঘাতক ফোরকান মোল্লা গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে একে একে তার নিজের আপন স্ত্রী শারমিন (৩৫), বড় মেয়ে মীম (১৪), মেজো মেয়ে উম্মে হাবিবা (১১), ছোট নিষ্পাপ শিশু কন্যা ফারিয়া (৫) এবং তার শ্যালক রসুল মিয়াকে (২২) অত্যন্ত নৃশংসভাবে জবাই করে হত্যা করে।

পরদিন সকালে ঘরের ভেতর থেকে রক্ত ভেসে আসতে দেখে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দিলে এই গণ-হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ঘটনার পর থেকেই পুরো কাপাসিয়া তথা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। ঘাতক ফোরকানকে গ্রেপ্তারে মেহেরপুর, গোপালগঞ্জ, বেনাপোল সীমান্তসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশের একাধিক বিশেষ টিম চিরুনি অভিযান চালায়। অবশেষে সমস্ত জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে পদ্মার বুকেই মিলল এই খুনি ফোরকানের নিথর দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট