1. dailyprobatibangladesh@gmail.com : daily probati bangladesh : daily probati bangladesh
  2. live@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
  3. info@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ :
লালমনিরহাটে তিস্তার বালু তোলার গর্তে ডুবে দুই সহোদর ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া - দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
লালমনিরহাটে তিস্তার বালু তোলার গর্তে ডুবে দুই সহোদর ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া পদ্মায় মিলল কাপাসিয়ার ৫ খুনের খলনায়ক ফোরকানের লাশ সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল উদ্ধারের পর রহস্যের অবসান দুর্গাপুরে নিখোঁজ চার বছরের শিশু হুমায়রার ম/র/দে/হ উ/দ্ধা/র, এলাকায় শোকের ছায়া গাজীপুরে বাসন থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান মাদক অস্ত্র ও অপহরণ মামলার ৫ আসামি গ্রেপ্তার বিসমিল্লাহ রাহমানির রাহিম অভিনন্দন, শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা স্বীকার জানাচ্ছি। হুইপ নুরুদ্দিন অপুর টিস্যুবক্স নিক্ষেপ নিয়ে অপপ্রচার শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের নিন্দা নবীনগরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পরিবার সীমান্তে ৩৫ বিজিবির বড় সাফল্য বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ, কসমেটিকস ও জিরা জব্দ বগুড়ায় র‌্যাবের ঝটিকা অভিযান ৩০ পিস ইয়াবাসহ কুখ্যাত মাদক কারবারি মতিন আটক শরীয়তপুরে গা শিউরে ওঠা হত্যাকাণ্ড প্রবাসী স্বামীকে খুন করে লাশ টুকরো করে ফ্রিজে রাখলেন স্ত্রী

ভিডিও সংবাদ 👇👇

লালমনিরহাটে তিস্তার বালু তোলার গর্তে ডুবে দুই সহোদর ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া

মো: শরিফ উদ্দিন মোল্লা, জেলা প্রতিনিধি (লালমনিরহাট) 
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে
লালমনিরহাটের রাজপুরে তিস্তা নদীতে বালু তোলার গর্তে ডুবে দুই সহোদর ভাইয়ের অকাল মৃত্যু। ছবি: প্রভাতী বাংলাদেশ।

মো: শরিফ উদ্দিন মোল্লা, জেলা প্রতিনিধি (লালমনিরহাট) 

লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর এলাকায় তিস্তা নদীতে গোসল করতে নেমে বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট গভীর গর্তে ডুবে আপন দুই সহোদর ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন তিস্তা নদী এলাকায় এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত দুই ভাই হলেন—রাজপুর বাজার এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষক রেজাউল করিম মাস্টারের বড় ছেলে সিফাউল করিম সিফাত (১৮) এবং ছোট ছেলে সোহায়েব করিম স্বচ্ছ (১৩)।

নিহত দুই ভাই-ই স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে অত্যন্ত মেধাবী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তারা দুজনেই লালমনিরহাট ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। বড় ভাই সিফাত একাদশ শ্রেণিতে এবং ছোট ভাই স্বচ্ছ নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। একই সাথে দুই সম্ভাবনাময় তরুণের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো লালমনিরহাট জেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে রাজপুরের বাতাস।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় দুপুরের দিকে তিস্তার চরে বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলতে গিয়েছিল সিফাত ও স্বচ্ছ। খেলাধুলা শেষ করে শরীরের ক্লান্তি দূর করতে এবং গোসল করার উদ্দেশ্যে তারা নদীর তীরে নোঙর করে রাখা একটি ডিঙি নৌকায় ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় নৌকার আকস্মিক দোলনিতে ছোট ভাই স্বচ্ছ ভারসাম্য হারিয়ে হঠাৎ গভীর পানিতে পড়ে যায়।

চোখের সামনে ছোট ভাইকে পানিতে ডুবে যেতে দেখে বড় ভাই সিফাত নিজেকে স্থির রাখতে পারেনি। স্নেহের অনুজকে জীবিত উদ্ধার করার জন্য সে তাৎক্ষণিকভাবে নদীতে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, নদীর তলদেশে লুকিয়ে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বালু তোলার এক বিশাল ও গভীর গর্তের টানে তারা দুজনেই তলিয়ে যায়। সাঁতার জানা সত্ত্বেও সেই মরণফাঁদ থেকে আর কেউ জীবিত ফিরে আসতে পারেনি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে তিস্তা নদীর তীর রক্ষাবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছিল। সেই সময় জিও ব্যাগে বালু ভরার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নদীর ওই নির্দিষ্ট স্থান থেকে ড্রেজার বা এক্সকাভেটর দিয়ে যত্রতত্র ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করেছিল। বালু তোলার কারণে নদীর তলদেশে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিশাল এবং অত্যন্ত বিপজ্জনক এক গর্তের সৃষ্টি হয়। বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমেও এই গর্তটি পানির নিচে অদৃশ্য অবস্থায় ছিল, যা শেষ পর্যন্ত এই দুই মেধাবী ভাইয়ের অকাল মৃত্যুর মূল কারণ হয়ে দাঁড়ালো।

উদ্ধার কাজে সরাসরি অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা মো. রুবেল ইসলাম অত্যন্ত আবেগতাড়িত কণ্ঠে বলেন, “নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি কাজের জন্য এই স্থান থেকে প্রচুর বালু তোলা হয়েছিল। এর ফলে নদীর তলদেশে প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ফুট গভীর একটি বিশাল গর্ত তৈরি হয়ে থাকে। খবর পেয়ে আমরা যখন পানিতে নেমে তল্লাশি শুরু করি, তখন গর্তের ভেতরে এক শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য দেখতে পাই। আমরা দেখি, ছোট ভাই স্বচ্ছ’র হাত শক্ত করে আঁকড়ে ধরে আছে বড় ভাই সিফাত। আমাদের ধারণা, ছোট ভাই গর্তে পড়ে যাওয়ার পর তাকে টেনে তুলতে গিয়েই বড় ভাইও সেই গভীর গর্তের ঘূর্ণিপাকে তলিয়ে যায়। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও ভাই ভাইয়ের হাত ছাড়েনি।”

এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পেছনে রয়েছে আরেকটি চরম বেদনাদায়ক অধ্যায়। নিহতদের বাবা রেজাউল করিম মাস্টার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পায়ের অপারেশনের জন্য ঘটনার আগের দিনই (শুক্রবার) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁর দেখাশোনার জন্য মা-ও স্বামীর সাথে হাসপাতালেই অবস্থান করছিলেন। বাড়িতে বাবা-মা না থাকার সুবাদেই দুই ভাই দুপুরে চরে খেলতে গিয়েছিল এবং এই চরম দুর্ঘটনার শিকার হয়। একদিকে হাসপাতালের বেডে অসুস্থ বাবা, অন্যদিকে বাড়িতে দুই সন্তানের নিষ্প্রাণ দেহ—এই নির্মম বাস্তবতা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী।

রাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় ইউপি সদস্য ডাবলু অধিকারী গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “ছেলে দুটি অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও মেধাবী ছিল। ক্যান্টনমেন্টের ছাত্র হওয়ায় তাদের আচার-ব্যবহার সবার নজর কাড়তো। ছুটির দিনে তারা প্রায়ই চরের খোলা মাঠে ফুটবল খেলতে যেত। গতকালই তাদের বাবা অপারেশনের জন্য হাসপাতালে গেলেন, আর আজ এই বুক ফাটানো দুর্ঘটনা ঘটলো। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং নদীর এসব বিপজ্জনক গর্ত দ্রুত ভরাট করার দাবি জানাচ্ছি। ঘটনার পর পরই স্থানীয়দের সহযোগিতায় নদী থেকে দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “পানিতে ডুবেই দুই সহোদর ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক একটি ঘটনা। ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশ দল পাঠানো হয়েছে। তারা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করছে এবং পুরো বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে দেখছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিকালে দুই ভাইয়ের মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনায় রাজপুর বাজারসহ পুরো জেলায় নেমে এসেছে স্তব্ধতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট