
ফেনীতে প্রবাসীর স্ত্রী ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
এম,এ,করিম ভুঁইয়া,স্টাফ রিপোর্টার ফেনী
ফেনীর ইলাশপুর এলাকায় প্রবাসীর স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া তিন্নি (২২) ঝুলন্ত ম’রদে’হ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
১৬ মে (শনিবার) ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে ইলাশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত জান্নাতুল মাওয়া তিন্নি (২২) ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের আব্দুল সাত্তারের মেয়ে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তিন্নি ও প্রবাসী হৃদয়ের সাথে বিয়ে হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দাবি, এটি আ/ত্মহ/ত্যা নয়, পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হ/ত্যা করা হয়েছে।
নি/হতের বাবা আব্দুল সাত্তার জানান, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। ঘটনার দিন জান্নাতুল মাওয়া তিন্নি (২২) শ্বশুরবাড়িতে যাওয়ার পর তার আপন ঝা’র সঙ্গে গ্যাস বিল ও বিদ্যুত বিল নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, এক পর্যায়ে ঘর থেকে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তারা কক্ষে প্রবেশ করে জান্নাতুল মাওয়া তিন্নি (২২) ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনার পর নিহতের পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হ/ত্যাকা/ণ্ড দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
এদিকে জান্নাতুল মাওয়া তিন্নি (২২) তার বাবাকে নিয়ে সকাল ১০ টার দিকে শ্বশুর বাড়িতে যায়। এরপর ওই বাড়িতে থাকা তার ঝার সাথে বাড়ির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়, এক পর্যায়ে ভিতরের কক্ষে দুজনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এ সময় মাওয়ার বাবা আবদুস সাত্তার সামনের কক্ষে বসা ছিল।
কিন্তু হঠাৎ দুই জা এর মধ্যে ঝগড়া থেমে যায়। প্রায় আধা ঘন্টা পরও মেয়ের সাড়া শব্দ না পেয়ে এক পর্যায়ে ভিতরের কক্ষে গিয়ে দেখেন তার মেয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলছে।
এরপর তার চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে তাকে উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
২০২৪ সালে জান্নাতুল মাওয়া তিন্নি (২২) ফেনী সদরের পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নে ইলাশপুর গ্রামে ইসরাফিল হোসেন হৃদয়কে (২৭) বিয়ে করেন। হৃদয় বর্তমানে সৌদি আরবে রয়েছেন।
ওই বাড়িতে হৃদয় ও তার বড় ভাই ইউসুফের স্ত্রী বসবাস করতেন। কিন্তু বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ নিয়ে তাদের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে ঝগড়া চলছিল।
ইসরাফিল হোসেন হৃদয় সৌদি আরব থেকে মোবাইল ফোনে বলেন, মাওয়া তিন্নির সাথে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর বিয়ে হয়, এরপর গত বছরের জানুয়ারিতে তিনি সৌদি আরব চলে যান। তারপর থেকে তার স্ত্রী জান্নাতুল মাওয়া তিন্নি (২২) তার বাবার বাড়িতে থাকতেন। মাঝে মাঝে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল পরিশোধ করে আবার চলে যান। কিন্তু বাড়ির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ নিয়ে তার স্ত্রীর সাথে এবং তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর মধ্যে মুঠোফোনে কয়েকবার ঝগড়া হয়।
নিহত জান্নাতুল মাওয়া তিন্নি (২২) ধর্মপুর ইউনিয়নের পূর্ব কাছাড় গ্রামের আবদুস সাত্তারের ছোট মেয়ে।
নিহতের ছোট বোন জান্নাতুল ফেরদাউস বলেন, বাড়ির বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গেলে হৃদয়ের ভাইয়ের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা তাকে হত্যা করে ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখেন।
জান্নাতুল মাওয়া তিন্নির বাবা আব্দুস সাত্তার (৬০) অভিযোগ করেন তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মোহাম্মদ ফৌজুল আজীম জানান খবর পেয়ে আমরা দ্রুত গিয়ে ভিকটিমকে নিয়ে সুরতহাল করেছি, সুরতহাল রিপোর্ট পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।