
অস্ত্র মহড়ায় রাতের রাজত্বে ‘জাহেদ বাহিনী’, জিম্মি এলাকাবাসী
মোহাম্মদ আরিফ
উপজেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতি বাজার এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহেদ ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ সন্ত্রাস, ডাকাতি, হামলা ও দখলবাজির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সন্ধ্যার পর থেকেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করে এবং সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাহেদ প্রকাশ “ছিনতাইকারী জাহেদ”-এর বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ডাবল মার্ডার, অস্ত্র, ছিনতাই, চুরি ও মারামারিসহ প্রায় দুই ডজন মামলা রয়েছে। বছরের অধিকাংশ সময় কারাগারে থাকলেও জামিনে বের হয়ে আবারও এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে সন্ধ্যার পর জাহেদের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ বাহিনী অস্ত্র নিয়ে এলাকায় প্রকাশ্যে মহড়া দেয় এবং ডাকাতি ও ছিনতাই চালায়। ভয়ে এলাকাবাসী রাত হলেই ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে থাকতে বাধ্য হন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জাহেদ প্রকাশ্যে ঘর দখল, হামলা ও হত্যার হুমকিও দিয়ে আসছেন।
গত ১১ মে ২০২৬ রাতে সমিতি বাজার এলাকার পিটি স্কুল সংলগ্ন এক প্রবাসীর বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। প্রবাসীর স্ত্রী ছকিনা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী বিদেশে থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জাহেদ বাহিনী তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিল। একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা রাত সাড়ে ১০টার দিকে অস্ত্রসহ হামলা চালিয়ে ঘরের টিনের গেইট কেটে ও দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় তারা প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ লক্ষাধিক টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর ছকিনা বেগম বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ১১ জনকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন। বর্তমানে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
একই রাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী টিটুর ওপরও হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, জাহেদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা টিটুর মাথায় গুলি চালিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায়ও থানায় মামলা হয়েছে।
ভুক্তভোগী টিটু অভিযোগ করেন, এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি থাকলেও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হচ্ছে না। বরং কিছু অসাধু সদস্যের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাগরিবের পর একা চলাফেরা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কয়েকজন মিলে চলাফেরা না করলে ছিনতাই বা হামলার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তারা দ্রুত জাহেদ ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষ থেকেই থানায় এজাহার দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য ও তার অতীত রেকর্ডও ভালো নয়। উপর মহল থেকে নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে কক্সবাজার সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ নাদিম আলীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।