1. dailyprobatibangladesh@gmail.com : daily probati bangladesh : daily probati bangladesh
  2. live@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
  3. info@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ :
মোটরসাইকেলে নতুন করের বোঝা মধ্যবিত্তের চলার পথে অন্তরায় - দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ০১:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মোটরসাইকেলে নতুন করের বোঝা মধ্যবিত্তের চলার পথে অন্তরায় অ স্ত্র মহড়ায় রাতের রাজত্বে ‘জাহেদ বাহিনী’, জিম্মি এলাকাবাসী ডাক্তার দেখিয়ে ফেরার পথে ট্রাকচাপায় বাবার মৃ ত্যু, হাসপাতালে মেয়ে বান্দরবান-৩০০ নং সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিংপ্রু জেরি আলীকদমে হাম ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের পাশে-* বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকার চোরাচালানী মালামাল জ ব্দ হোসেনপুরে কৃষকদের জাঁক জমক অংশগ্রহনে পার্টনার কংগ্রেস কর্মশালা অনুষ্ঠিত জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি দোয়ারাবাজার থানার তরিকুল ইসলাম তালুকদার। কারওয়ান বাজারে দৈনিক ২-৩ কোটি টাকার চাঁদাবাজি সংলাপে জামায়াত ও বিএনপি এমপির বাগ্বিতণ্ডা আসন্ন ঈদে ঢাকা-টাঙ্গাইল যমুনা সেতু মহাসড়কে তীব্র যানজটের শঙ্কা ভোগান্তির আশঙ্কায় যাত্রী ও চালকরা বগুড়ার শিবগঞ্জে জমিজমা নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: চাচাতো দুই ভাই নি হ ত, আ হ ত ১।

ভিডিও সংবাদ 👇👇

মোটরসাইকেলে নতুন করের বোঝা মধ্যবিত্তের চলার পথে অন্তরায়

প্রতিনিধির নাম :
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে
দেশের অর্থনীতি ও কর্মজীবী মানুষের যাতায়াতে মোটরসাইকেল এখন অন্যতম প্রধান বাহন। ছবি: সংগৃহীত

অ্যাডভোকেট এমরান হোসেন

আসছে বাজেটে মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর নতুন করের বোঝা চাপানোর কথা ভাবছে সরকার। এতে করে চাপে পড়তে পারে শহরের কর্মজীবী মানুষ, মফস্বলের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, গ্রামের শিক্ষক, মাঠপর্যায়ের কর্মী, ডেলিভারি কর্মী, সংবাদকর্মী, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী মানুষজন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মোটরসাইকেল গণপরিবহণের অনিশ্চয়তা, যানজট, সময়ের অপচয় এবং ভাড়ার চাপের মধ্যে মোটরসাইকেল অনেকের কাছে জীবনযাত্রার প্রয়োজনীয় উপকরণে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ কাস্টমসের ডিউটি ক্যালকুলেটর অনুযায়ী, ৫০–২৫০ সিসি CBU মোটরসাইকেলের HS Code 87112039-এর ক্ষেত্রে মোট করভার বা Total Tax Incidence (টিটিআই) প্রায় ১৫৫.৮৮ শতাংশ। অর্থাৎ আমদানি পর্যায়েই একটি মোটরসাইকেলের ওপর বিপুল শুল্ক-কর আরোপিত হয়। এর মধ্যে কাস্টমস ডিউটি, সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাট, অগ্রিম আয়কর, রেগুলেটরি ডিউটি ও অ্যাডভান্স ট্যাক্স অন্তর্ভুক্ত।

এমন বাস্তবতায় মোটরসাইকেলের ওপর সিসি অনুযায়ী বার্ষিক অগ্রিম আয়কর আরোপের প্রস্তাব নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১১০ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল করমুক্ত রাখা হলেও ১১১–১২৫ সিসির ক্ষেত্রে বছরে ২,০০০ টাকা, ১২৬–১৬৫ সিসির ক্ষেত্রে বছরে ۵,০০০ টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে বছরে ১০,০০০ টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপের কথা বলা হচ্ছে।

একটি সহজ উদাহরণ দেওয়া যায়। যদি কোনো মোটরসাইকেলের আমদানি মূল্য ধরা হয় ১ লাখ টাকা, তাহলে ১৫৫.৮৮ শতাংশ মোট করভার অনুযায়ী কর-ভ্যাট দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮০ টাকা। ফলে করসহ মোট খরচ দাঁড়ায় প্রায় ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮৮০ টাকা। এর সঙ্গে ডিলার মার্জিন, পরিবহন ব্যয়, ব্যাংকিং খরচ, নিবন্ধন ফি, নম্বর প্লেট, ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ট্যাক্স টোকেন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় যোগ হয়।

অর্থাৎ একজন ক্রেতা যখন শোরুম থেকে একটি মোটরসাইকেল কেনেন, তখন তিনি শুধু পণ্যের মূল্য দেন না; সেই মূল্যের ভেতরেই বড় অঙ্কের কর-ভ্যাট পরিশোধ করেন। সাধারণ ভোক্তা হয়তো আলাদা করে বুঝতে পারেন না, কিন্তু বাইকের বাজারদরের বড় অংশই কর কাঠামোর ফল।

এরপর মালিকানা পর্যায়ে আসে বিআরটিএ নিবন্ধন, ট্যাক্স টোকেন ও নবায়ন-সংক্রান্ত খরচ। বিআরটিএর অনলাইন সার্ভিস পোর্টালে নিবন্ধিত যানবাহনের ফি হিসাবের ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন হালনাগাদ গাইডে দেখা যায়, মোটরসাইকেলের সিসি ও মেয়াদভেদে নিবন্ধন ও ট্যাক্স টোকেনের খরচ ভিন্ন হয়; ১০ বছরের নিবন্ধন ব্যয় ১০০ সিসির নিচে ও ১০০ সিসির ওপরে আলাদা, আর ট্যাক্স টোকেন নবায়নেও আলাদা খরচ পড়ে। তবে চূড়ান্ত হিসাবের জন্য বিআরটিএর নির্ধারিত ফি ক্যালকুলেটর বা সরকারি তালিকাই অনুসরণযোগ্য।

এখন প্রশ্ন হলো, আমদানি পর্যায়ে এত বড় করভার, পরে নিবন্ধন ও ট্যাক্স টোকেন, তার ওপর আবার সিসি অনুযায়ী বার্ষিক অগ্রিম আয়কর—এসব মিলিয়ে মোটরসাইকেল মালিকের ওপর চাপ কতটা বাড়বে?

ধরা যাক, একজন ব্যক্তি ১৫০ সিসির একটি মোটরসাইকেল কিনেছেন। তিনি শোরুম মূল্যেই আমদানি পর্যায়ের কর-ভ্যাটের বোঝা বহন করেছেন। এরপর নিবন্ধন ও ট্যাক্স টোকেন করেছেন। প্রস্তাব কার্যকর হলে ১২৬–১৬৫ সিসি ক্যাটাগরিতে তাকে বছরে আরও ৫,০০০ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হতে পারে। এই ব্যক্তি যদি রাইড শেয়ারিং না করেন, বাইক দিয়ে কোনো ব্যবসায়িক আয় না করেন, শুধু অফিসে যাতায়াত করেন—তাহলে তার ওপর এই বার্ষিক কর ন্যায্য কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, অগ্রিম আয়কর চূড়ান্ত কর নয়; আয়কর রিটার্নে তা সমন্বয়ের সুযোগ থাকতে পারে। রাষ্ট্রের যুক্তি দেশে কর-জিডিপি অনুপাত কম, রাজস্ব বাড়ানো দরকার, করজাল সম্প্রসারণ জরুরি। যাদের মোটরযান আছে, তাদের কর কাঠামোর আওতায় আনা হবে—এই নীতিও নতুন নয়। কিন্তু মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে প্রশ্নটি শুধু রাজস্বের নয়; এটি সরাসরি জীবনযাত্রার ব্যয়, আয়ক্ষমতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং সামাজিক ন্যায্যতার সঙ্গে যুক্ত।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, দেশের বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত নন। তাদের জন্য এই কর অনেক ক্ষেত্রেই কার্যত অতিরিক্ত নগদ ব্যয় হিসেবে দেখা দেবে। ফলে এটি করশৃঙ্খলা তৈরির বদলে করভীতি ও অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।

এছাড়াও সব মোটরসাইকেল মালিককে এক কাতারে ফেলা যায় না। কেউ বাইক দিয়ে আয় করেন, কেউ করেন না। কেউ প্ল্যাটফর্মভিত্তিক রাইড শেয়ারিং করেন, কেউ শুধুই ব্যক্তিগত প্রয়োজন মেটান। কেউ শহরে যানজট এড়াতে বাইক ব্যবহার করেন, কেউ গ্রামে জরুরি যোগাযোগের জন্য। এই ভিন্ন বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে সিসি-ভিত্তিক একরকম কর আরোপ করলে তা নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তের ওপর অসম চাপ তৈরি করতে পারে।

বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতির কারণে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এমনিতেই বেড়েছে। খাদ্য, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, পরিবহন, বাড়িভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসা—প্রায় সব খাতেই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকের আয় একই আছে, কিন্তু ব্যয় বেড়েছে। এই অবস্থায় মোটরসাইকেলের মতো প্রয়োজনীয় চলাচল-সাধনের ওপর বাড়তি বার্ষিক কর আরোপ মানুষের বাস্তব ক্রয়ক্ষমতাকে আরও দুর্বল করবে।

  • প্রথমত: ১৬৫ সিসি পর্যন্ত ব্যক্তিগত ব্যবহারের মোটরসাইকেলকে বিলাসপণ্য হিসেবে দেখা উচিত নয়। এগুলো বাংলাদেশের বাস্তবতায় কর্মজীবী মানুষের চলাচলের বাহন।

  • দ্বিতীয়ত: ব্যক্তিগত ব্যবহার ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য করা দরকার। রাইড শেয়ারিং, ডেলিভারি সার্ভিস বা প্ল্যাটফর্মভিত্তিক আয়ের সঙ্গে যুক্ত মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা কর কাঠামো থাকতে পারে। কিন্তু ব্যক্তিগত ব্যবহারের বাইকের ওপর একই ধরনের বার্ষিক কর আরোপ ন্যায্যতার প্রশ্ন তৈরি করবে।

  • তৃতীয়ত: যেহেতু আমদানি পর্যায়েই মোট করভার প্রায় ১৫৫.৮৮ শতাংশ, তাই মালিকানা পর্যায়ে নতুন কর আরোপের আগে সামগ্রিক করভার বিশ্লেষণ করা উচিত। একটি পণ্যের ওপর একাধিক ধাপে কর চাপানো হলে শেষ পর্যন্ত তার বোঝা পড়ে ভোক্তার ওপর।

  • চতুর্থত: মুদ্রাস্ফীতির সময়ে করনীতি হওয়া উচিত সংবেদনশীল। রাজস্ব প্রয়োজন থাকলেও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা না করলে করনীতি সামাজিক অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।

  • পঞ্চমত: কর আদায়ের সহজ পথ হিসেবে মোটরসাইকেল মালিকদের বেছে না নিয়ে কর ফাঁকি, উচ্চ আয়ের অপ্রদর্শিত সম্পদ, বিলাসী ভোগ এবং বড় আকারের কর অব্যবস্থাপনার দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

করের ক্ষেত্রে জনগণের অবস্থান একেবারে করবিরোধী নয়। সাধারণ মানুষ কর দিতে আপত্তি করেন না, যদি তা ন্যায্য হয়, ব্যাখ্যাযোগ্য হয় এবং সেবার প্রতিফলন দেখা যায়। কিন্তু যখন একজন ক্রেতা বাইক কেনার সময়ই আমদানি শুল্ক, ভ্যাট, সম্পূরক শুল্কসহ বড় কর দেন; পরে নিবন্ধন ও ট্যাক্স টোকেন দেন; এরপর আবার বার্ষিক অগ্রিম আয়কর দিতে হয়—তখন প্রশ্ন ওঠে, একই নাগরিককে একই বাহনের জন্য কতবার কর দিতে হবে?

রাষ্ট্রের রাজস্ব দরকার, কিন্তু নাগরিকের চলাচলের অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ। মোটরসাইকেলকে শুধু কর আদায়ের সহজ ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হলে এর প্রভাব পড়বে তরুণ কর্মজীবী, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবার, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ডেলিভারি কর্মী, মাঠপর্যায়ের পেশাজীবী এবং গ্রামীণ মানুষের ওপর।

করনীতি হওয়া উচিত বাস্তবভিত্তিক, মানবিক ও ন্যায্য। যে মোটরসাইকেল একজন মানুষের রুটি-রুজির সঙ্গী, সেটিকে বিলাসপণ্য ভেবে করের ভার চাপালে রাষ্ট্র রাজস্ব পেতে পারে, কিন্তু মানুষের আস্থা হারাবে। দেশের উন্নয়নে সরকারের রাজস্ব বাড়ানো জরুরি, কিন্তু তা যেন সাধারণ মানুষের চলার পথকে আরও ব্যয়বহুল করে না তোলে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট