
ধামরাইয়ে চানাচুরের প্রলোভনে ৭ বছরের শিশুকে টয়লেটে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টা, ‘৯৯৯’ কলে লম্পট রুবেল গ্রেপ্তার
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!মোহাম্মদ উজ্জল খান স্টাফ
রিপোর্টার (ঢাকা)
ঢাকার ধামরাইয়ে চানাচুর খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে গ্যারেজের টয়লেটে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গণপিটুনির শিকার মো. রুবেল (৩০) নামে এক লম্পট যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ।
আজ সোমবার (৮ জুন) সকালে কঠোর নিরাপত্তায় তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে, গতকাল রোববার (৭ জুন) বিকেলে উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের বড় কুশিয়ারা এলাকা থেকে স্থানীয় জনতা তাকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এই ঘটনায় রোববার রাতেই ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে ধামরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত মো. রুবেল ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের কাইজারকুন্ড এলাকার শাহজাহান খলিফার ছেলে।
ভুক্তভোগী পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার বিকেলে কুল্লা ইউনিয়নের বড় কুশিয়ারা এলাকার একটি অটো গ্যারেজের পাশে অন্য শিশুদের সাথে খেলা করছিল ওই শিশুটি। এ সময় নির্জনতার সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত রুবেল শিশুটিকে চানাচুর কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ফুসলিয়ে গ্যারেজের ভেতরে নিয়ে যায়। পরে সেখানে থাকা একটি টয়লেটের ভেতর ঢুকিয়ে দরজা বন্ধ করে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
এ সময় গ্যারেজের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবেশী এক নারী বিষয়টি টের পান। তিনি তাৎক্ষণিক শিশুটির পরিবার ও আশেপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে শিশুটির স্বজন ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত গ্যারেজের ভেতরে গিয়ে টয়লেটের দরজা খোলার জন্য চিৎকার করতে থাকেন।
টয়লেটের বাইরে মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে ভেতরে রুবেল শিশুটির মুখ চেপে ধরে রাখে যাতে সে চিৎকার করতে না পারে। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে উপস্থিত জনতা টয়লেটের দরজা ভেঙে ফেলার চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে গণধোলাইয়ের ভয়ে রুবেল বাধ্য হয়ে দরজা খুলে দেয়। ভেতর থেকে আতঙ্কিত ও ক্রন্দনরত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং উত্তেজিত জনতা রুবেলকে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখে।
উত্তেজিত জনতা আইন নিজের হাতে না তুলে তাৎক্ষণিক সরকারের জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ‘৯৯৯’-এ কল করে বিষয়টি অবহিত করেন। খবর পেয়ে ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোতাহার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে গণপিটুনির শিকার রুবেলকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনার ভয়াবহতায় রোববার রাতেই ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
এই বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোতাহার হোসেন বলেন,কুল্লা ইউনিয়নের বড় কুশিয়ারা এলাকার একটি অটো গ্যারেজে ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়রা একজনকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। আমরা সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভিকটিমকে উদ্ধার করি এবং অভিযুক্ত রুবেলকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসি।
তিনি আরও জানান, রোববার রাতেই শিশুর বাবার দায়ের করা মামলায় রুবেলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ সোমবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে এবং মামলার তদন্ত কাজ দ্রুত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।