
সাংবাদিক পরিচয়ে অটোচালকের ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার এক
ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী।
রাজশাহী মহানগরীতে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে এক অটোচালকের কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা প্রতারণা মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি পাভেল ইসলাম মিমুল (৩০)। তিনি নগরীর বোয়ালিয়া মডেল থানার তালাইমারী বাবর আলী সড়ক এলাকার বাসিন্দা এবং টুলুর ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে নগরীর মতিহার থানাধীন কাজলা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ গোলাম কবির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকারিয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে কাজলা মোড় এলাকা থেকে মামলার আসামি মিমুলকে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অটোচালক মঞ্জুর মতিহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি মতিহার থানার মামলা নম্বর-১৮ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এতে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪০৬ এবং ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। গ্রেফতারের পর শুক্রবার সকালে তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলেও জানান ওসি।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মঞ্জুর তার মহাজনের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি কাটাখালী থানা এলাকার একটি গ্যারেজে বন্ধক রেখে ২৫ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে গত ২১ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে অটোরিকশাটি ছাড়িয়ে আনার জন্য তিনি তার বন্ধু মিলনের সহযোগিতা চান।
এ সময় মিলনের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া মিমুল নিজেকে একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি অটোরিকশাটি গ্যারেজ থেকে ছাড়িয়ে এনে দেওয়ার আশ্বাস দিলে মঞ্জুর তার হাতে নগদ ২৫ হাজার টাকা তুলে দেন।
তবে টাকা গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও মিমুল অটোরিকশা নিয়ে ফিরে আসেননি। পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এজাহারে আরও বলা হয়, পরদিন ২২ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মঞ্জুর তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হলে মিমুল টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। একই সঙ্গে তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী মঞ্জুর প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনে মতিহার থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত চলাকালে পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও অনুসন্ধান চালিয়ে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে।
দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে মিমুলকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। তার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী অটোচালক ও তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরত পাওয়ার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তারা।